উইমেন্স ফুটবল লিগে গোলের বন্যা দেখা গেছে চতুর্থ রাউন্ডে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত পাঁচটি ম্যাচে মোট ৪৯টি গোল হয়েছে। একই দিনে দেখা গেছে ৭টি হ্যাটট্রিক। পাঁচ ম্যাচের মধ্যে পরাজিত দলগুলোর মধ্যে কেবল নাসরিন একাডেমি একটি গোল পরিশোধ করতে পেরেছে, বাকি দলগুলো গোলশূন্য থেকেছে।
এর আগে তৃতীয় রাউন্ডে এক দিনে পাঁচটি ম্যাচে মোট ৩৫টি গোল হয়েছিল। চতুর্থ রাউন্ডে এসে সেই সংখ্যাকে অনেকটাই ছাড়িয়ে গেছে গোলসংখ্যা, যা লিগের প্রতিযোগিতামূলক চিত্রের পাশাপাশি দলগুলোর আক্রমণভাগের শক্তিও তুলে ধরেছে।
রাজধানীর কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে চতুর্থ রাউন্ডে সবচেয়ে বড় জয়টি পেয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তারা করাচিপাড়া একাদশকে ১৮-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিট থেকেই সেনাবাহিনীর গোল উৎসব শুরু হয়। প্রথমার্ধে তারা ৮টি এবং দ্বিতীয়ার্ধে আরও ১০টি গোল করে।
সেনাবাহিনীর হয়ে তিনজন খেলোয়াড় হ্যাটট্রিক করেন। উন্নতি খাতুন একাই করেছেন ৬টি গোল। সুলতানা করেন ৪টি এবং তনিমা বিশ্বাস করেন ৩টি গোল। অর্পিতা বিশ্বাস ও বৃষ্টি আক্তার দুটি করে গোল করেন। একটি গোল করেন হালিমা খাতুন।
দিনের প্রথম ম্যাচে লিগের শিরোপাধারী নাসরিন একাডেমির মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ আনসার। ম্যাচে ৭-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারে নাসরিন একাডেমি। এটি ছিল চলতি লিগে তাদের টানা চতুর্থ হার। আনসার ও ভিডিপির হয়ে উমহেলা একাই পাঁচ গোল করেন। মামনি চাকমা ও সুইচিঙ্গমা মারমা করেন বাকি দুটি গোল।
নাসরিন একাডেমির হয়ে একমাত্র গোলটি করেন পপি রানী। চলতি লিগে এটি তাদের প্রথম গোল। তবে চার ম্যাচে তারা হজম করেছে মোট ৪২টি গোল।
দিনের তৃতীয় ম্যাচে সদ্যপুস্করনী যুব স্পোর্টিং ক্লাব ৭-০ গোলে হারিয়েছে ঢাকা রেঞ্জার্সকে। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে জান্নাতুল ফেরদৌস ঝিনুক দলকে লিড এনে দেন। পরে ২০ ও ৩১তম মিনিটে আরও দুটি গোল করে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন তিনি। ৮৭তম মিনিটে নিজের চতুর্থ গোলটি করেন ঝিনুক। বাকি গোলগুলো করেন শিলা আক্তার, অনন্যা খানম ও আয়াত সিনহা।
চতুর্থ ম্যাচে ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব ৯-০ গোলে পরাজিত করে সিরাজ স্মৃতি সংসদকে। এই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র ও মারিয়া মান্দা। ম্যাচের ৬, ১০ ও ৩৬ মিনিটে গোল করে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। পরে ৬৩তম মিনিটে করেন নিজের চতুর্থ গোল। ফরাশগঞ্জের হয়ে পুজা ও শামসুন্নাহার সিনিয়র একটি করে গোল করেন।
দিনের শেষ ম্যাচে রাজশাহী স্টার্স ৭-০ গোলে বাংলাদেশ পুলিশকে হারিয়েছে। এই ম্যাচে কোনো হ্যাটট্রিক না হলেও ঋতুপর্ণা চাকমা জোড়া গোল করেন। শাহেদা আক্তার রিপা, দিপা শাহী, সুরভি আকন্দ প্রীতি ও আফঈদা খন্দকার একটি করে গোল করেন। ম্যাচে একটি আত্মঘাতী গোলও হয়।
সূত্র: খেলার সময়
সিএ/এসএ


