যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে ইমিগ্রেশন এজেন্টের গুলিতে এক নারী নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
শত শত শহরে আয়োজিত এসব বিক্ষোভে লাখো মানুষ অংশ নিয়েছেন। তারা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বিলুপ্তির দাবি জানাচ্ছেন। খবর আল জাজিরার।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অভিবাসীদের গণ-নির্বাসন কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে, যার মূল দায়িত্বে রয়েছে আইসিই। ট্রাম্প প্রশাসন সংস্থাটির আকার, বাজেট ও ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। এর ফলে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে আইসিই।
এমন এক অভিযানের সময় গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) মিনিয়াপোলিসে আইসিই সদস্যের গুলিতে নিহত হন ৩৭ বছর বয়সী রেনি নিকোল ম্যাকলিন গুড। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ জানিয়েছে, গুড কোনো অভিবাসী নন; তিনি কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে জন্মগ্রহণকারী একজন মার্কিন নাগরিক। তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক অভিযোগও ছিল না।
ঘটনার পর মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট নেতাদের পাশাপাশি রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসনের কর্মকর্তারা অভিযুক্ত আইসিই কর্মকর্তার পক্ষ নেন। তাদের দাবি, গুড তার গাড়ি দিয়ে অভিবাসন কর্মকর্তাদের চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং আইসিই সদস্য নিজের জীবন রক্ষায় ‘আত্মরক্ষামূলক গুলি’ ছুড়েছেন। ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্পও লেখেন, এক আইসিই কর্মকর্তা বিপদের মুখে পড়েছিলেন।
তবে মিনিয়াপোলিসের মেয়র এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন, গুলি চালানো কর্মকর্তা ‘বেপরোয়া আচরণ’ করেছেন। ফিলাডেলফিয়ার শেরিফ রোচেলে বিলালও আইসিই এজেন্টদের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি তাদের ‘ভুয়া ও অপেশাদার’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তাদের কার্যক্রম বৈধ আইন ও নৈতিকতার উভয়েরই লঙ্ঘন।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, গাড়ি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় খুব কাছ থেকে ওই নারীকে গুলি করা হয়। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর মিনিয়াপোলিসসহ বিভিন্ন শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন।
রয়টার্স জানিয়েছে, আইসিইর কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এক হাজারেরও বেশি সমাবেশের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে শনিবার (১০ জানুয়ারি) মিনিয়াপোলিসসহ বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়। প্রচণ্ড শীত ও ঠান্ডা বাতাস উপেক্ষা করে লাখো মানুষ এসব কর্মসূচিতে অংশ নেন।
মিনিয়াপোলিসে বিক্ষোভকারীরা মেক্সিকান আদিবাসী নৃত্যশিল্পীদের নেতৃত্বে নিকোল ম্যাকলিন গুডের হত্যাস্থল পর্যন্ত মিছিল করেন। তারা গুডের নামে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি আইসিই বিলুপ্তির দাবি জানান। বিক্ষোভে উচ্চারিত হয়— ‘বিচার নেই, শান্তি নেই— আইসিইকে আমাদের পথ থেকে সরিয়ে নিন’।
৩০ বছর বয়সী প্রতিবাদকারী এলিসন মন্টোগোমারি রয়টার্সকে বলেন, “আমি চরম ক্ষুব্ধ ও বিধ্বস্ত। আমার মন পুরোপুরি ভেঙে গেছে। শুধু আশা করছি, একদিন সবকিছু ঠিক হবে।”
সিএ/এসএ


