নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপের সহায়তায় জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বে এক নতুন ও রহস্যময় বস্তুর সন্ধান পেয়েছেন, যাকে বিজ্ঞানের পরিভাষায় ‘ব্যর্থ ছায়াপথ’ বলা হচ্ছে। এই অদ্ভুত বস্তুটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এবং এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘ক্লাউড-৯’।
সাধারণ ছায়াপথে যেখানে কোটি কোটি তারার উপস্থিতি থাকে, সেখানে ক্লাউড-৯ প্রায় তারাহীন। গবেষকদের ধারণা, এটি মূলত ডার্ক ম্যাটার দিয়ে গঠিত একটি বিশাল মেঘ। এ কারণে এটি মহাবিশ্বের প্রাথমিক গঠন প্রক্রিয়া এবং ডার্ক ম্যাটারের প্রকৃতি বোঝার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
মিলানো-বিকোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গবেষক আলেজান্দ্রো বেনিতেজ-ল্যাম্বা এই আবিষ্কারকে একটি ‘ব্যর্থ ছায়াপথের গল্প’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, বস্তুটির পূর্ণাঙ্গ একটি ছায়াপথে রূপ নেওয়ার কথা থাকলেও নানা কারণে সেটি আর গড়ে ওঠেনি। পর্যাপ্ত তারার অনুপস্থিতি বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের তাত্ত্বিক ধারণাকে বাস্তব প্রমাণে পরিণত করেছে।
এই বস্তুটিকে ‘রিয়ায়নাইজেশন-লিমিটেড এইচআই ক্লাউড’ বা সংক্ষেপে ‘রেলহিক’ নামেও চিহ্নিত করা হচ্ছে। গবেষকদের ধারণা, মহাবিশ্বের শুরুর দিকে ছায়াপথ গঠনের সময় যে আদিম কাঠামোগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় থেকে গিয়েছিল, ক্লাউড-৯ তারই একটি জীবন্ত উদাহরণ।
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ESA)-এর গবেষকরা জানিয়েছেন, ক্লাউড-৯ মহাবিশ্বের অন্ধকার অংশ পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে এক অনন্য সুযোগ এনে দিয়েছে। কারণ মহাবিশ্বের মোট উপাদানের প্রায় ৮৫ শতাংশই ডার্ক ম্যাটার, যা সাধারণ টেলিস্কোপে দেখা যায় না। ক্লাউড-৯-এ কোনো তারার আলো না থাকায় এখানে ডার্ক ম্যাটারের বিশুদ্ধ উপস্থিতি দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে।
এই আবিষ্কারের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও অনেক ‘ব্যর্থ ছায়াপথ’ শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, পার্শ্ববর্তী ছায়াপথগুলোর আশেপাশে এমন আরও অসম্পূর্ণ কাঠামো লুকিয়ে থাকতে পারে, যা মহাবিশ্বের বিবর্তন ও গঠনপ্রক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানে ডার্ক ম্যাটার শনাক্ত করা কঠিন হলেও ক্লাউড-৯ সেই অজানা জগতের রহস্য উন্মোচনে একটি বিরল জানালা খুলে দিয়েছে।
সিএ/এসএ


