চট্টগ্রামের আতুরের ডিপো এলাকা থেকে ৩৫০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাইয়ের চারদিন পর অভিযান চালিয়ে ২৯০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। এই সময় চাকুরিচ্যুত এক পুলিশ সদস্যসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) মিডিয়া রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তার অভিযান ৮ জানুয়ারি থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ঢাকায় এবং চট্টগ্রামে পরিচালিত হয়। অভিযান পরিচালনায় নগর গোয়েন্দা পুলিশ (উত্তর) ও পাঁচলাইশ থানা পুলিশ অংশ নেয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন সুমন চন্দ্র দাস (৪২), মো. মাসুদ রানা বাইক বাবু (৩০), রফিকুল ইসলাম প্রকাশ ইমন (২২), রবি কুমার দাস (৪০), পান্না রানী দাস (৩৮) ও বিবেক বনিক (৪২)। এর মধ্যে সুমন চন্দ্র দাস পুলিশের এএসআই ছিলেন। ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকায় তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) হাবিবুর রহমান জানান, গত ৪ জানুয়ারি সবুজ দেবনাথ তাঁর সঙ্গে আরও দুইজনকে নিয়ে ৩৫০ ভরি সোনাসহ একটি সিএনজি গাড়িতে কোতোয়ালি থানার সাবেরিয়া এলাকা থেকে বায়েজিদ বোস্তামি থানাধীন অক্সিজেনের উদ্দেশে রওনা হন। পথে আতুরের ডিপো এলাকায় পৌঁছালে দুইটি মোটরসাইকেলে থাকা চারজন ছিনতাইকারী তাঁদের পথরোধ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধর করে। এসময় তাদের কাছ থেকে ৩৫০ ভরি সোনা, তিনটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় মামলা করা হয়।
পাঁচলাইশ মডেল থানা ও ডিবি (উত্তর) বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত চৌকস আভিযানিক দল গোপন সূত্র ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে। এর ধারাবাহিকতায় গাজীপুর জেলার কাশিমপুর থানার মাধবপুর এলাকা থেকে সুমন চন্দ্র দাস, মো. মাসুদ রানা ও রফিকুল ইসলাম ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর সুমনের তথ্য অনুযায়ী তার স্ত্রী পান্না রানি দাস ও রবি কুমার দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া ছিনতাইকারীদের সোনার বার বহনের তথ্য দেওয়ার জুয়েলারি দোকানের কর্মচারী বিবেক বণিককেও গ্রেপ্তার করা হয়। ছিনতাইয়ের মূল পরিকল্পনাকারী একজন এখনো পলাতক রয়েছেন।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম বলেন, গ্রেপ্তার সুমন চন্দ্র দাস স্বীকার করেছে যে তার নেতৃত্বে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ছিনতাই সংঘটিত হয়েছে। সুমনের সঙ্গে দোকান কর্মচারী বিবেকের সম্পর্ক ছিল। বিবেক তথ্য দেয় যে দোকানের কর্মচারীরা সোনার বার নিয়ে যাবে। ছিনতাই করার পর সোনাগুলো সুমন তার স্ত্রী পান্না ও শ্যালক রবির কাছে রাখে।
নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, সুমন ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকায় পুলিশ বাহিনী থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত। আগে সে সোনার বার ছিনতাইয়ের ঘটনায় জেলও ভোগ করেছে।此次 অভিযানে ছিনতাইকারীদের কাছ থেকে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়েছে।
সিএ/এএ


