ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার বা এনইআইআর বাস্তবায়িত হলে ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের স্মার্টফোনের দাম ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে আশা করছে মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমআইওবি)। সংগঠনটির মতে, এই উদ্যোগ কার্যকর হলে দেশে উচ্চমূল্যের স্মার্টফোন উৎপাদন ও বিক্রি বাড়বে, যার সরাসরি সুফল পাবেন ভোক্তারা।
মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় ‘এনইআইআর-এর হাত ধরে শুরু হোক নিরাপদ বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে এমআইওবি। সেখানে জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে উৎপাদিত ৩০ হাজার টাকার বেশি দামের স্মার্টফোনের সংখ্যা খুবই সীমিত। এনইআইআর কার্যকর হলে এ ধরনের স্মার্টফোন দেশে বড় পরিসরে উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে, যা উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়ক হবে এবং বাজারে দামও ধীরে ধীরে হ্রাস পাবে।
এমআইওবি জানায়, স্মার্টফোন উৎপাদনের জন্য মূল কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তি আমদানি করতে হয়। দেশে যখন বেশি দামের স্মার্টফোন বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন শুরু হবে, তখন স্কেল ইকোনমির সুবিধায় উৎপাদন খরচ স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে। এর ফলে স্থানীয় বাজারে দামি স্মার্টফোন আরও সহজলভ্য হবে।
সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এমআইওবির নির্বাহী পরিচালক ও শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, ২০৩০ সালে বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারের আকার প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। সে সময় বাংলাদেশ বছরে ৫ থেকে ৬ হাজার কোটি টাকার স্মার্টফোন রপ্তানি করতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশে বৈধ স্মার্টফোন বাজারের আকার বছরে ৯ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার। ২০২২ সালের আগে এই বাজার ১২ থেকে ১৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও ২০২২ ও ২০২৩ সালে এলসি জটিলতা ও ডলার বিনিময় হারের অসামঞ্জস্যতার কারণে বাজারে বড় ধরনের ধস নামে। তবে ২০২৪ সাল থেকে বাজার আবার ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।
এমআইওবির সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন, এনইআইআর বাস্তবায়ন দেশের মোবাইল ফোন শিল্পে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করার একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এর মাধ্যমে অবৈধ ও নকল মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে এবং বৈধ ব্যবসা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হবে।
তিনি এনইআইআর বাস্তবায়নের উদ্যোগের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বিটিআরসি কার্যালয়ে সংঘটিত ভাঙচুরসহ যেকোনো সহিংস ও আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড এমআইওবি নিন্দা জানায়। নীতিগত ধারাবাহিকতা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় থাকলে স্মার্টফোন শিল্প ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বর্তমানে দেশে ১৮টি মোবাইল সংযোজন ও উৎপাদন কারখানা রয়েছে, যেখানে দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে তিন হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ হয়েছে। এই খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী শ্রমিক। কারখানাগুলোর মাসিক উৎপাদন সক্ষমতা ১৫ লাখ স্মার্টফোন ও ২৫ লাখ ফিচার ফোন।
এমআইওবির তথ্য অনুযায়ী, অবৈধ বা গ্রে মার্কেটের কারণে সরকার বছরে দুই হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব হারাচ্ছে। গ্রে মার্কেটের আকার প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা, যা স্থানীয় শিল্পের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ উৎপাদন সক্ষমতাকে অব্যবহৃত রাখছে। এনইআইআর বাস্তবায়িত হলে এই অবৈধ বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব অর্জন করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
সিএ/এসএ


