ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেই দেলসি রদ্রিগেজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। মাদুরোর একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ৫৬ বছর বয়সী রদ্রিগেজ দেশটির সংসদে অনুষ্ঠিত এক অধিবেশনে শপথ গ্রহণ করেন। ২০১৮ সাল থেকে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
এদিকে মার্কিন সামরিক অভিযানে ক্ষমতাচ্যুত ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, মাদুরো ব্যক্তিগতভাবে মাদক চোরাচালানে জড়িত এবং অবৈধভাবে ক্ষমতায় আছেন। তাকে বিচারের জন্য নিউ ইয়র্কের একটি আদালতে হাজির করা হয়েছে।
দেলসি রদ্রিগেজকে শপথবাক্য পাঠ করান তার ভাই জর্জ রদ্রিগেজ, যিনি ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের আইনসভার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শপথ অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত মে মাসে জাতীয় পরিষদের জন্য মোট ২৮৩ জন আইনপ্রণেতা নির্বাচিত হয়েছেন। তবে নির্বাচিতদের মধ্যে খুব কমসংখ্যককে বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, কারণ অধিকাংশ বিরোধী দল নির্বাচন বর্জন করেছে। বিশেষ করে নোবেল বিজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট নির্বাচনে অংশ নেননি।
শপথ অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস, যিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছেন। শপথ নেওয়ার পর দেলসি রদ্রিগেজ মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটকের ঘটনাকে ‘অপহরণ’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘অবৈধ সামরিক আগ্রাসনের বেদনা নিয়ে আমি শপথ নিচ্ছি।’ তিনি দেশের শান্তি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অঙ্গীকারও করেন।
সংসদীয় অধিবেশনে মাদুরোর ছেলে উপস্থিত ছিলেন এবং তার মা-বাবার ফিরে আসার ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করেন। এ সময় মাদুরো ও রদ্রিগেজের সমর্থনে কয়েক হাজার মানুষ ভেনেজুয়েলার পার্লামেন্ট ভবনের সামনে সমাবেশ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
উল্লেখ্য, রদ্রিগেজের শপথ গ্রহণের মাত্র দুই ঘণ্টা আগে নিউ ইয়র্কের আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন নিকোলা মাদুরো। তিনি বলেন, ‘আমি একজন সজ্জন ব্যক্তি। আমি এখনো আমার দেশের প্রেসিডেন্ট।’ নিজেকে ‘অপহৃত’ ও ‘যুদ্ধবন্দি’ হিসেবে দাবি করেন মাদুরো। তার বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদের চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
সিএ/এএ


