ভয়ংকর প্রজাপতি ‘হেলিকনিয়াস’

28

প্রজাপতি আমাদের কাছে সৌন্দর্যের প্রতীক। এটি দেখলেই স্পর্শ করতে মন চায়।আমরা সবুজ প্রকৃতির মাঝে রঙ-বেরঙা উড়ন্ত প্রজাপতির সৌন্দর্য উপভোগ করি। কিন্তু এই প্রজাপতির একটি জাত আছে যা খুবই ভয়ংকর রকমের বিষাক্ত। তারা হিংস্র হয়ে উঠলে নিজেদের মাংস নিজেরা খেতে দ্বিধা করে না। তারা শুধু ভয়ংকরই না এমনকি তাদের শরীরে  খোঁজ মিলে এক ধরণের ‘সাইনাইড’। আর এই সাইনাইড যদি কোনো প্রাণীর শরীরে ঢুকে তাহলে প্রাণীটি মারা যায়। আর ভয়ংকর রকমের বিষাক্ত এই প্রজাপতির নাম হেলিকনিয়াস

সাম্প্রতিক আবিষ্কারে এই প্রজাপতির ৩৯ টি প্রজাতির চিহ্ন মিলে। কি কারণে এই প্রজাপতি এতো ভয়ংকর এবং বিষাক্ত তা খুঁজে বের করেন হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিজ্ঞান বিভাগের গবেষক ডারলিন মারাওস্কি। তিনি দেখেন যে ‘প্যাশন ভাইন’ নামের এক গাছে ডিম পাড়ে এই রাক্ষুসে প্রজাপতিগুলো। আর ওই গাছে থাকে সাইনাইড বিষের উৎস। এই গাছের বিভিন্ন  অংশ খেয়ে ফেলে হেলিকনিয়াসরা। ফলে তারা মারাত্মক বিষাক্ত হয়ে উঠে।

এই মারাত্মক প্রজাপতির সাধারণত দেখা মিলে প্রশান্ত মহাসাগর তীরবর্তী এলাকায়।বনে জঙ্গলেও এদের কিছু  প্রজাতি দেখা যায়। বিশেষত কোস্টারিকার বনে এদের দেখা মেলে। ওদের শরীরে লক্ষ্য করা যায় এক ধরণের ভয়াল কালো লম্বা ডানা। আর এজন্য অনেক প্রাণীবিজ্ঞানী এর নাম দেন ‘লং উইং’। সর্বপ্রথম টমাস বেল্ট নামে এক ব্রাজিলিয়ান প্রাণীবিজ্ঞানী এই প্রজাপতির সন্ধান পান। এই প্রাণীবিজ্ঞানীর নেশাই ছিলো প্রজাপতি সংগ্রহ করা। প্রথমবার তিনি হেলিকনিয়াস ধরতে গিয়ে হতভম্ব হয়ে যান। তিনি যখন প্রথমবার এই প্রজাপতির নমুনা সংগ্রহ করার জন্য যান, তখন দেখেন প্রজাপতিটি একটি বাদুড়কে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল। দৃশ্যটা দেখে টমাসের মনে হয়নি নরম সরম একটা প্রজাপতি একটা বাদুড়কে তাড়িয়ে বেড়াবে। ভেবেছিলো বাদুড়টা মনে হয় এমনি ঘুরাঘুরি করতেছে আর প্রজাপতি এমনি তার পিছন পিছন ছুটছে।

কিন্তু একটু পর লক্ষ্য করলেন বাদুড়টি কিছু সময়ের জন্য যখন অসতর্ক হয়ে পড়ে তখন প্রজাপতিটি তাকে আক্রমণ করে বসে আর বাদুড়টি মারা যায়। তারপর কিছুক্ষণের মধ্যে দলবল নিয়ে মৃত বাদুড়টিকে খেয়ে ফেলে এই রাক্ষুসে হেলিকনিয়াস প্রজাপতি। সবাই এই হেলিকনিয়াসকে ভয় পায়। ভুল করে কেউ যদি এদের সামনে পড়ে যায় তবে বুঝতে পারলে জান নিয়ে পালায়।

টমাস বেল্ট আরো দেখে যে ওই বনের পাখিরা তাদের বাচ্চাকে অন্যসব পোকামাকড়ের ডিম, শূককীট এসব এনে খাওয়ায়। কিন্তু  ভুলেও ওই রাক্ষুসে প্রজাপতির ডিম কিংবা শূককীট স্পর্শ করে না।

তবে অন্যান্য বর্ণিল প্রজাতির মতো হেলিকনিয়াসরা যখন উড়ে বেড়ায় তখন চোখ ফেরাতে মন চাই না। এদের বিচরণ ভঙ্গিতে দেখা মিলে নানান বৈচিত্র‍। আর অন্যান্য প্রজাতির অনেক ভঙ্গি এরা অনুকরণ করতে পারে। প্রকৃতি মাঝে কত রকমের লুকিয়ে থাকা রহস্য যে এখনও উন্মোচন করা বাকি তা এই প্রজাপতি সম্পর্কে জানলেই বুঝতে পারা যায়।

~ নাছির উদ্দিন