কথাসাহিত্যিক তকিব তৌফিকের এক কপি বই বিক্রি হলো ১১,১১১/- টাকায়!

80

তকিব তৌফিকের প্রকাশিতব্য উপন্যাস ‘রিঙ্গণপুর’ এর প্রথম কপি বিক্রি হলো এগারো হাজার একশো এগারো টাকায়, বইটি কিনেছেন মোঃ ইফতেখার উদ্দীন চৌধুরী। বই বিক্রির এই সম্পূর্ণ টাকা ব্যয় হবে অসহায় মানুষদের কল্যাণে।

বই, সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার কিংবা বন্ধু। এই বই নিয়ে মানুষের পাগলামির অন্ত নেই। সাহিত্যের জন্মলগ্ন থেকেই সাহিত্যপ্রেমীরা দারুণ সব পাগলামীর মাধ্যমে সাহিত্যিকদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন বছরের পর বছর। সাহিত্যপ্রেমীদের এতোসব পাগলামোর কারণেই সাহিত্য কালে কালে মানুষের প্রিয় হয়েছে, জন্ম নিয়েছে কত শত ইতিহাস।

বাংলা সাহিত্যের ক্ষেত্রেও একই বিষয় পরিলক্ষিত হয়। লেখকদের জন্য কিংবা লেখকদের লেখার জন্য পাঠকদের কতো শতো পাগলামি। যখন সোশ্যাল মিডিয়া ছিলো না, তখন এই পাগলামি গুলো শুধুমাত্র সেই সাহিত্যপ্রেমীর মাঝেই আবদ্ধ ছিলো। দিন যত গড়িয়েছে, পাগলামির গল্প তত ছড়িয়েছে।

আমরা সবাই হুমায়ূন আহমেদ নিয়ে পাগলামির কথাগুলো কিংবা গল্পগুলো জানি। কারোরই অজানা নয়। তার সৃষ্ট বাকের ভাইয়ের জন্য আন্দোলন হয়, হিমু সেজে পথে পথে ঘুরে বেড়ায় কত তরুণ, এসব কারোরই অজানা নয়।

কিন্তু, এবার দারুণ এক খবরের জন্ম দিলেন বর্তমান সময়ের অন্যতম পাঠকপ্রিয় লেখক তকিব তৌফিক। জনপ্রিয় এই লেখক একটু ভিন্নধর্মী পন্থা অবলম্বন করলেন। আগামী একুশে গ্রন্থমেলার জন্য প্রকাশিতব্য উপন্যাস ‘রিঙ্গণপুর’ নিয়ে একটা দারুণ কাজ করলেন ‘বই কথা’ অনলাইন বুকশপের সৌজন্যে।

প্রিয় লেখকের বইয়ের প্রথম কপি কেনার জন্য পাঠকেরা হরহামেশাই একটু আগ্রহ দেখায়। তবে সেই আগ্রহ থেকে লেখক তকিব তৌফিকের ‘রিঙ্গণপুর’ এর প্রথম কপিটি ১১,১১১/- টাকায় বিক্রি হবে, এটা অনুমানের বাইরে ছিলো। ‘বই-কথা’ বুকশপের মাধ্যমে আয়োজিত নিলামে বইয়ের প্রথম কপিটি ১১,১১১/- টাকায় কিনে নিয়েছেন মোঃ ইফতেখার উদ্দীন চৌধুরী।

বই বিক্রির এই সম্পূর্ণ টাকাটুকুই ব্যয় করা হবে অসহায় শীতার্তদের শীতবস্ত্র কিনতে। অর্থাৎ পাঠকপ্রিয় লেখক তকিব তৌফিক এর ‘রিঙ্গণপুর’ এর প্রথম কপিটি যেই মূল্যে বিক্রি হয়েছে, তার সম্পূর্ণ টাকা ব্যয় হতে যাচ্ছে মানবতার কাজে। প্রচন্ড এই শীতে কষ্ট করছে অসংখ্য অসহায় মানুষ। তাদের পাশে দাঁড়াতে এই ভিন্নধর্মী পন্থা অবলম্বন করলেন মাটির মানুষ তকিব তৌফিক।

লেখক-পাঠকেরা হরহামেশাই এসব কাজ করে আলোচনার জন্ম দেন কিন্তু কথাসাহিত্যিক তকিব তৌফিক মানবতার তরে কাজ করার জন্য অসাধারণ একটি পন্থা অবলম্বন করলেন এবং প্রচন্ড রকমের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

বইটির কথা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ুক। এই পাগলামোর কথা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ুক। হাসি ফুটে উঠুক কিছু অসহায় শীতার্ত মানুষের মুখে। ভালো থাকুক লেখক তকিব তৌফিকের মত, মাটির মানুষেরা।

লিখেছেন: নাহিদ আহসান।