নিখোঁজ হওয়ার ৪দিন পরও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত স্কুলছাত্র মোহাম্মদ তানভির হোসেনের সন্ধান পায়নি নিউইয়র্কের পুলিশ। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসে লুইস এ্যান্ড ক্লার্ক স্কুলের একাদশ গ্রেডের ছাত্র তানভিরের বাবা জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলতাফ হোসেন গতকাল বুধবার রাতে এ তথ্য জানান। তিনি এই সংবাদদাতাকে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, ‘গত রবিবার বিকাল সাড়ে ৪টার সময় আমার সাথেই বাসা থেকে চুল কাটতে বের হয় তানভির। সেলুনে পৌঁছার পর সে জানায় যে, আজ চুল কাটবে না। বাসায় ফিরতে চায়। আমি সেলুনে ঢুকে চুল কাটার পর বাসায় ফিরে দেখি তানভির নেই। অপেক্ষা করি রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত।’
আলতাফ জানান, ‘বহুদিন যাবৎ ব্রঙ্কসের ২৮৯৪, ব্রিজ এভিনিউতে বসবাস করছি সপরিবারে। তানভিরের সবকিছু চেনাজানা। তাই তার ফেরার অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু সে না ফেরায় ৯১১ এ ফোন করি। নিখোঁজ রিপোর্ট করেছি। পরদিন পুলিশ বাসায় এসেছিল। ডিটেকটিভ মাঠে নেমেছে। যে স্থান থেকে নিখোঁজ হয়েছে, সেখান থেকে ৫ ব্লক পর্যন্ত তানভির হেঁটে যাবার ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে আশপাশের সিসিটিভি থেকে। তারপরই সে উধাও।’
তানভিরের নিখোঁজ হওয়ার সংবাদে পুরো কম্যুনিটিতে গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সকলেই পুলিশ এবং স্থানীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলেছেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাত অবধি কোনো ক্লু পায়নি পুলিশ।
তানভিরের বাবা আলতাফ জানান, শুক্রবার বাদ জুমা ব্রঙ্কসে যেখান থেকে সে নিখোঁজ হয়েছে, সেখানে প্রবাসীরা মানববন্ধন করবেন। কম্যুনিটির সর্বস্তরে এ নিয়ে প্রস্তুতি চলছে। প্রকাশ্য দিবালোকে এমনভাবে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেউই সহজভাবে নিতে চাচ্ছেন না। নিখোঁজ হওয়ার আগে তানভিরের কাছে তেমন কোনো নগদ অর্থও ছিল না।
তানভিরের বাবা বলেন, স্কুলে কিংবা চলতি পথে কখনো কারো সাথে তানভিরের বিবাদ হয়েছে বলেও শুনিনি। তাই আমরাও গভীর শঙ্কায় রয়েছি। আমি চাই তানভিরের প্রত্যাবর্তন।
এদিকে, তানভিরের হদিস চেয়ে নিউইয়র্ক পুুলিশ ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে পোস্টার লাগানো হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। সেখানে পুলিশের ডিটেকটিভের নামসহ ফেন নম্বরও দেয়া হয়েছে।