মাঠে ফিরেই মেসি ম্যাজিকে বার্সেলোনার জয়

35

নাহিদ আহসান ||

প্রায় ৯৮ দিন পর রিয়াল মায়োর্কার বিপক্ষে দর্শকশূন্য এস্তাদি দ্যা সন ম্যক্সে অর্থাৎ মায়োর্কার মাঠেই আতিথ্য নিয়ে বাংলাদেশ সময় ঠিক রাত দুই ঘটিকায় খেলতে নামে বার্সেলোনা। গত সপ্তাহের চোট কাটিয়ে পুরোদমে সুস্থ হয়ে অধিনায়কের ব্যাচ পরে মাঠে ফিরে মেসি। মার্টিন ব্রেথওয়েট ও এন্টোনি গ্রিজম্যানের সঙ্গে ফরওয়ার্ড সামাল দিয়ে যেন প্রথম থেকেই গোলের দেখা পেতে মরিয়া লিওনেল মেসি।

দুই মিনিটের মাথায় জর্ডি আলবার বাঁ পায়ের চমৎকার ক্রসে মায়োর্কার কফিনে যেন প্রথম পেরেকটি ঠুকে দেয় ভিডাল। বক্সের সামান্য বাইরে থেকে ফ্র‍্যাঙ্কি ডি জং বলটি পেয়েই জর্ডি আলবাকে পাস করে এবং এরপর আলবার এসিস্টেই প্রথম গোলের দেখা পান ভিডাল।

তরুণ প্রতিভাবান রোনাল্ড আর‍্যুজো শুরু থেকেই জেরার্ড পিকের সাথে সেন্ট্রাল ডিফেন্স সামাল দিয়েছেন। অপরদিকে মার্টিন ব্রেথওয়েট, লিওনেল মেসি এবং এন্টোনি গ্রিজম্যানের সঙ্গে বেশ শক্ত ত্রয়ীই তৈরী করেছিলেন ম্যাচের শুরু থেকে। মায়োর্কার মাঠেই মায়োর্কাকে যেভাবে চেপে ধরেছিলেন মেসিরা, জীবনবাজি রেখেই ডিফেন্স করতে দেখা গেছে মায়োর্কার ডিফেন্ডারদের। ম্যাচের ১২ মিনিটের মাথায় মেসি দারুণ এক সুযোগ হারায় মায়োর্কার ডিফেন্ডারদের ভালো ডিফেন্সের কারণে।

অপরদিকে মায়োর্কার ফরওয়ার্ডে পেদ্রাজা এবং কুবোও বেশ ভালো খেলছিলেন শুরু থেকেই। ২২ মিনিটের মাথায় চমৎকার এক শটও নেন কুবো, তবে বার্সেলোনার গোলকিপারের কল্যাণে গোলের সমতা আর পাওয়া হলোনা।

৩৭ মিনিটে ব্রেথওয়েটের চমকে আসে দ্বিতীয় গোল, মেসির অসাধারণ পাসকে নিজের স্টাইলে গোলপোস্টে ঢুকিয়ে দিয়ে সতীর্থদের উল্লাসে মাতিয়ে তোলেন এই লেফট ওইঙ্গার। মেসির এসিস্টের এই সুযোগটাও তৈরী করে দেন ফ্র‍্যাঙ্কি ডি জং। বেশ পরিষ্কারভাবেই মায়োর্কার উপর চাপ সৃষ্টি করে ম্যাচ চালকের আসনে বসেই প্রথমার্ধ শেষ করে বার্সেলোনা।

প্রায় পাঁচ মাস পর উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ মাঠে ফিরবেন, পুরো নব্বই মিনিট তাকে খেলানোর রিস্ক বার্সেলোনা নেয়নি। প্রথমার্ধেরও পরে ৫৭ মিনিটের মাথায় গ্রিজম্যানের বদলি হয়ে মাঠে নামেন লুইস সুয়ারেজ। নেমেই ৬৩ মিনিটের মাথায় মেসির দুর্দান্দ এক পাসে খোঁচা দিতে ভুল করেন সুয়ারেজ, ফলাফল গোলের দেখা থেকে বিরত থাকলেন ম্যাচে।

৭৯ মিনিটের মাথায় আবারও মেসির চমক। এবারও মেসির চমককে গোলে রুপান্তর করলেন জর্ডি আলবা। মেসির চমৎকার এসিস্টে গোল করলেন তিনি, ফলাফল ৩-০ তে এগিয়ে তখন বার্সেলোনা। পুরো ম্যাচেই দুর্দান্ত খেলেছেন মেসি, দুটো এসিস্ট করার পাশাপাশি অসাধারণ সব গোলের সুযোগ তৈরী করে দিয়েছিলেন তিনি। দুটো গোল করিয়ে নিজে যদি গোলের দেখা না পান, তাহলে ৯৮ দিন পরে খেলতে নামা বার্সেলোনার জয়োৎসব কিছুটা ভাটায় পড়বেনা?

যা চাওয়া তা পাওয়া, ৯০ মিনিট শেষে এক্সট্রা ৫ মিনিট পেলো দুইদল। কালক্ষেপণ না করে ৯৩ মিনিটের মাথায় দুর্দান্ত এক গোল করে মায়োর্কার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিয়ে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করলেন মেসি। কোচ কিকে সেতিয়েন ম্যাচ শুরুর আগে মেসির খেলা নিশ্চিত করে একবার বার্সেলোনার ফ্যানদেরকে খুশি করে দিয়েছিলেন, সেই দর্শকদের নারাজ করেননি এই ফুটবল তারকা। ধারাভাষ্যকাররা সম্পূর্ণ ম্যাচ যাবত এটাই বলে চলছিলেন যে দেখে মনেই হচ্ছে না বেশ অনেকদিন বাদে মাঠে নেমেছেন ফুটবল জাদুকর মেসি।

করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন মাঠে গড়ায়নি কোন ফুটবল ম্যাচ, ফলে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে ছিলো বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা, ফিরলো জয় দিয়ে। মেসির চমকে লীগ টেবিলের শীর্ষে থেকেই পয়েন্ট ব্যবধান বাড়িয়ে নিলো দুইয়ে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here