মহাকাশে একটি গ্রহের জীবন মানুষের জীবনের মতোই নানা ধাপ পেরিয়ে এগোয়। জন্ম, পরিবর্তন ও শেষ পর্যন্ত এক ধরনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে যেতে হয় গ্রহকে। বিজ্ঞানীদের ধারণা অনুযায়ী, পৃথিবীর মোট আয়ু হতে পারে প্রায় ৯৫০ কোটি বছর। কিন্তু প্রশ্ন হলো, মহাবিশ্বের অন্যান্য গ্রহ কত দিন টিকে থাকে।
গ্রহের আয়ু বোঝার আগে তাদের জন্মপ্রক্রিয়া জানা জরুরি। বিজ্ঞানীদের মতে, একটি গ্রহের জন্ম হয় তরুণ নক্ষত্রের চারপাশে থাকা ধূলিকণার বিশাল ডিস্ক থেকে। প্রথমে অতি ক্ষুদ্র ধূলিকণা একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেতে খেতে বড় আকার ধারণ করে। কোটি কোটি বছরের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় এই কণাগুলো একত্র হয়ে গ্রহে রূপ নেয়।
বৃহস্পতি বা শনির মতো গ্যাসীয় দানব গ্রহগুলো শুরুতে ছিল পাথর ও বরফের বড় পিণ্ড। পরে নক্ষত্রের চারপাশের ডিস্ক থেকে বিপুল পরিমাণ গ্যাস টেনে নিয়ে তারা বিশাল আকৃতি লাভ করে। পৃথিবীর মতো পাথুরে গ্রহগুলোর ক্ষেত্রেও দীর্ঘ সংঘর্ষ ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গঠন সম্পন্ন হয়। তবে গ্রহ সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনও মতভেদ রয়েছে।
একটি গ্রহের মৃত্যু বলতে কেবল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়া নয়। কোনো গ্রহ যখন তার পরিচিত পরিবেশ ও বৈশিষ্ট্য হারিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নেয়, তখন সেটিকেও একধরনের মৃত্যু হিসেবে ধরা হয়। এর উদাহরণ হিসেবে পৃথিবীকেই ধরা যায়। পৃথিবীর ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে সূর্যের ওপর।
বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, আরও প্রায় ৫০০ কোটি বছর পর সূর্যের কেন্দ্রে থাকা হাইড্রোজেন জ্বালানি ফুরিয়ে যাবে। তখন সূর্য ধীরে ধীরে ফুলে উঠে একটি বিশাল লাল দানব নক্ষত্রে পরিণত হবে। এর ফলে প্রথম ধাপে পৃথিবীর তাপমাত্রা এতটাই বেড়ে যাবে যে সমুদ্রের পানি বাষ্প হয়ে উড়ে যাবে এবং পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। পরবর্তী ধাপে সূর্য যদি আরও প্রসারিত হয়, তবে পৃথিবী পুরোপুরি গ্রাস হয়ে যেতে পারে।
তবে পৃথিবীর আয়ু মহাবিশ্বের অনেক গ্রহের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম। কারণ আমাদের সূর্য একটি হলুদ বামন নক্ষত্র। মহাবিশ্বের অধিকাংশ নক্ষত্রই লাল বামন, যেগুলো অনেক ধীরে জ্বালানি পোড়ায়। ফলে এসব নক্ষত্রের চারপাশে ঘুরতে থাকা গ্রহগুলো কয়েক লাখ কোটি বছর পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে।
দীর্ঘ সময় টিকে থাকলেও একটি গ্রহের সামনে বিপদের আশঙ্কা থেকেই যায়। অন্য গ্রহের সঙ্গে সংঘর্ষ, কক্ষপথ থেকে বিচ্যুতি বা নক্ষত্র থেকে ছিটকে পড়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। অনেক সময় গ্রহগুলো নক্ষত্রহীন হয়ে মহাকাশে একাকী ঘুরে বেড়ায়, যাদের বলা হয় ভবঘুরে গ্রহ। এসব গ্রহের চূড়ান্ত পরিণতি নির্ভর করবে মহাবিশ্বের শেষ ভবিষ্যতের ওপর।
সিএ/এমআর


