স্টিভ জবস ডে

31

গল্পটা হলো একাকী বালক স্টিভ জবসের। মা-বাবা ছাড়া এই ছেলেটি ছোটবেলা থেকেই ছিলেন বেশ ধৈর্য্য আর সাহসী। তার জন্ম ১৯৫৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ক্যালিফোর্নিয়ার স্যানফ্রান্সিসকোতে। তার জন্মসূত্রে বাবা আবদুল ফাত্তাহ জান্দালি এবং মা জোয়ান সিম্পসন তাকে দত্তক দিয়ে দেন। এরপর তিনি বড় হন তার নতুন “জবস” পরিবারে। নতুন মা বাবার নাম ছিল “পল ও ক্লারা জবস”। কিন্তু এই নতুন দম্পত্তি স্টিভকে কখনোই পালক হিসেবে পালন করেননি।
স্টিভ জবস মূলত ছিলেন একজন উদ্ভাবক, ডিজাইনার এবং উদ্যোক্তা। প্রযুক্তিতে তার অবদানের অকল্পনীয়। ছাত্র জীবনের তিনি প্রথমে ভর্তি হয়েছিলেন স্টানফোর্ড কলেজে। কিন্তু মা-বাবার সামর্থ্য না থাকায় তিনি পড়াশোনা বন্ধ করে দেন। তখনকার সময় তার থাকার জন্যে ভালো কোন জায়গাও ছিলো না। তাই তিনি বন্ধুদের সাথে রুম শেয়ার করে থাকতেন। এবং বাড়তি আয়ের জন্যে মদের বোতল বিক্রি করতেন। এমনি প্রতি রবিবার ১১ কিলোমিটার পায়ে হেটে তিনি গীর্জায় যেতেন ভালো মানের খাবারের জন্য। ১৯৭৬ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন অ্যাপল কোম্পানি। তার কঠোর পরিশ্রম ও মেধায় মাত্র ১০ বছরেই সেটি ৪ হাজার লোকের চাকরি দিতে সক্ষম হয়। জবস মূলত ‘হাফ-সিরিয়ান’ ছিলেন। তার বাবা জান্দালি ছিলেন সিরিয়ান নাগরিক। এছাড়াও আরেক চমকপ্রদ তথ্য হচ্ছে জবস ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী। কলেজ ছাড়ার পর জবস ভারত ভ্রমণ করেন এবং বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন। তিনিই প্রথম ইংরেজি ক্যালিগ্রাফি ফ্রন্ট আবিষ্কার করেন। ২০১১ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিনের তথ্য অনুযায়ী, জবসের আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলার।
জীবন নিয়ে তার দর্শন ছিল অন্য রকম! তিনি কোন এক কনফারেন্সে বলেছিলেন “Your time is limited, so don’t waste it living someone else’s life.” অর্থাৎ অন্যের জীবন যাপন করার সময় কই? যেখানে আমাদের সময়ই সীমিত!
২০০৩ সালে তার ক্যান্সার ধরা পড়ে। ৮ বছর ক্যান্সার যুদ্ধে লড়ে, ২০১১ সালের ১৫ অক্টোবর এই মহামান্য প্রতিমান্য প্রতিভাধর মানুষটি মৃত্য বরন করেন। আজ
তার বিশেষ দিনে আমরা জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। ওপারে ভালো থাকবেন স্যার!

লিখেছেন : জুনায়েদ খান