ধ্রুপদের ‘আমারে দেবো না ভুলিতে’ শীর্ষক নজরুল জয়ন্তী

ধ্রুপদের 'কবিকথা' এবং 'আমারে দেবো না ভুলিতে' শীর্ষক নজরুল স্মরণোৎসব।

22

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৪ তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামের বিখ্যাত ও স্বনামধন্য সাংস্কৃতিক সংগঠন “ধ্রুপদ সংগীত নিকেতন” আয়োজন করেছে দুই দিন ব্যাপী নজরুল স্মরণোৎসব।

প্রথম দিনের আয়োজন ছিল “কবিকথা” ও দ্বিতীয় দিনের আয়োজন ছিল “আমারে দেবো না ভুলিতে” শীর্ষক নজরুল স্মরণ অনুষ্ঠান। গত ২৮ ও ২৯ আগষ্ট বাংলাদেশ সময় রাত ৮ টায় ধ্রুপদ সংগীত নিকেতনের ফেসবুক পেইজ ও গ্রুপ থেকে অনুষ্ঠান দুইটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। 

প্রথম দিনের আয়োজন সাজানো হয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন আংগিকে।

সংগঠনের পরিচালক উৎপল চন্দ্র নাথ বলেন, কবিকে আমাদের চেনা সেই ছোট্টবেলা থেকে তাও শুধু সেই চেনাজানা আমাদের পাঠ্যপুস্তকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, তাই কবিকে নিয়ে আরো বিশদভাবে জানতে তাদের এই আয়োজন।

উক্ত অনুষ্ঠানে কবির বিখ্যাত কিছু গান ও গানের ব্যাখ্যা-ইতিহাস তুলে ধরেন বিশিষ্ট নজরুল সংগীত শিল্পী, প্রশিক্ষক ও গবেষক মায়া রায়( আগরতলা, ত্রিপুরা)। এর পরপরই কবির জীবনের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরেন কবি নজরুলের একান্ত শিষ্য সংগীতাচার্য সিদ্ধেশ্বর মুখোপাধ্যায় এর কন্যা বিশিষ্ট নজরুল সংগীত শিল্পী ও প্রশিক্ষক কৃষ্ণা মজুমদার (কলকাতা,ভারত) (সংগীত বিশারদ,সংগীত প্রভাকর, সংগীত প্রবীণ, কন্ঠরত্ন এবং আকাশবাণী, দূরদর্শন, তারা মিউজিক এর সংগীত শিক্ষার আসর এর প্রশিক্ষক) ; যিনি খুব কাছ থেকে কবির সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন এবং কবিকে যখন বাংলাদেশে আনা হয় তখন কবির সাথে তিনিও বাংলাদেশে এসেছিলেন।

অনুষ্ঠানে কবিকে নিয়ে আরো স্মৃতিচারণ করেন আমাদের চট্টগ্রামের গর্ব স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী, নজরুল সংগীত শিল্পী সংস্থার সহ-সভাপতি এবং আর্য সংগীতের উপাধ্যাক্ষ ও প্রশিক্ষক জয়ন্তী লালা। মুক্তিযুদ্ধে কিভাবে কবির গান কবিতা আমাদের বাঙালিকে উদ্বুদ্ধ করেছিল সেসব নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন জয়ন্তী লালা। মুক্তিযুদ্ধে তিনি নিজেও অংশ নিয়েছিলেন।

এছাড়াও উক্ত অনুষ্ঠানে আরো অংশ নেন এপার বাংলা ওপার বাংলার এক ঝাঁক গুণী শিল্পী। 

অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন ভারতের বিখ্যাত সংগীতশিল্পী ও প্রশিক্ষক কৃষ্ণা মজুমদার ও শুভ্রা চক্রবর্তী, বাংলাদেশ থেকে সংগীত পরিবেশন করেন বিখ্যাত নজরুল সংগীতশিল্পী জয়ন্তী লালা, তারক নট্ট(ঢাকা),অপু বর্মন, পিন্টু ঘোষ, মিতালী রায়, জহর মুখার্জি, ফারুক আহমেদ, ঐশী দেওয়ানজি, সমরীতা মজুমদার, সজীব চক্রবর্তীসহ বেতার ও টেলিভিশন এর বরেণ্য গুনী শিল্পীবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী মাইনুল আজম চৌধুরী (বোধন আবৃত্তি পরিষদ), শ্রাবণী দাশগুপ্তা ( প্রশিক্ষক- জেলা শিল্পকলা একাডেমী, চট্টগ্রাম), সায়াহ্ন চক্রবর্তী (তারুণ্যের উচ্ছ্বাস), নীল মজুমদার (সদস্য – ধ্রুপদ সংগীত নিকেতন)। নৃত্য পরিবেশনায় ছিলেন ধ্রুপদ সংগীত নিকেতন এর সদস্য ও পরীক্ষক সুদীপ দত্ত জিমি।

তবলায় লহড়ার অনবদ্য পরিবেশনা দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন শিল্পী পাভেল বড়ুয়া (সদস্য, ধ্রুপদ সংগীত নিকেতন), সবশেষে বাঁশীর সুন্দর সুরধ্বনি দিয়ে কবিকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন শিল্পী রনি দে ( সদস্য, ধ্রুপদ সংগীত নিকেতন)।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ উজ্জ্বল চন্দ্র নাথ বলেন, বাংলা সাহিত্যে শুধু বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত হলেও আমাদের প্রাণের কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একাধারে কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা। তিনি বৈচিত্র্যময় অসংখ্য রাগ-রাগিনী সৃষ্টি করে বাংলা সঙ্গীত জগৎকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। প্রেম, দ্রোহ, সাম্যবাদ ও জাগরণের কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও গান শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রামে জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছে। মুক্তিযুদ্ধে তার গান ও কবিতা ছিল প্রেরণার উৎস।

সংগঠনে এর নৃত্য বিভাগ এর পরিচালক রিয়া দাশ চায়না বলেন, নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্য কর্ম বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করে। তার লেখনী জাতীয় জীবনে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। তার কবিতা ও গান মানুষকে যুগে যুগে শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে চলছে।তাই আমাদের বেশি বেশি করে নজরুলের চর্চা করতে হবে।

।।প্রেস বিজ্ঞপ্তি।।