চট্টগ্রামে তালতীর্থের “আগমনীর আবাহন” শীর্ষক অনুষ্ঠান

চট্টগ্রামে তালতীর্থ তবলা শিক্ষা ও শিল্পী নিকেতনের "আগমনীর আবাহন" শীর্ষক ফেসবুক লাইভ অনুষ্ঠান

54

প্রকৃতিতে শরতের আগমন ও সেইসাথে মহালয়া উপলক্ষে ‘তালতীর্থ তবলা শিক্ষা ও শিল্পী নিকেতন’-এর এবারের আয়োজন তালতীর্থের “আগমনীর আবাহন” শীর্ষক ফেসবুক লাইভ অনুষ্ঠান।

 ” আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে কখন আপনি

তুমি এই অপরূপ রূপে বাহির হলে জননী!”

ঋতু পরিক্রমায় বাংলার প্রকৃতিতে শরত এলে প্রকৃতি যেমন অপরুপ সাজে সজ্জিত হয় আবার তেমনি বাঙ্গালিদের মনে বেজে উঠে আগমনী সুর। 

কারণ, এই শরতের আশ্বিন মাসেই হয় বাঙ্গালি হিন্দুদের সবচেয়ে বড়ো ধর্মীয় উৎসব দূর্গাপুজো।    

গতকাল ১৭ সেপ্টেম্বর ছিল ‘ মহালয়া ‘। বলা হয়ে থাকে, এই দিনটি থেকেই শুরু হয় দেবীপক্ষের, শেষ হয় পিতৃপক্ষের।

পুরাণ মতে, এ দিন দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটে। মহালয়ার ৬ দিন পর থেকেই শুরু হয় মায়ের পূজার। 

হিসাব মতে মহালয়া থেকে দুর্গাপূজার আগমনী সুর শুনতে পাওয়া গেলেও এবছর সেই ৬ দিন পর থেকে পূজা অনুষ্ঠিত হবে না। আশ্বিন মাস মল (মলিন) মাস হওয়ার কারণে এবার দুর্গাপূজা শুরু হবে প্রায় একমাস পর অর্থাৎ আগামী ২১ অক্টোবর (বুধবার) থেকে।

শ্রী শ্রী চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আবাহনই মহালয়া হিসেবে পরিচিত। শারদীয় দুর্গাপূজার একটি গুরুত্বপর্ণ অনুষঙ্গ হলো এই মহালয়া। এই বছরের পুজো অন্যান্য বছরের মতো নয়।

পুরান মতে, মহালয়ার দিনে দেবী দুর্গা মহিষাসুর বধের দায়িত্ব পান। শিবের বর অনুযায়ী কোনও মানুষ বা দেবতা কখনও মহিষাসুরকে হত্যা করতে পারবে না। ফলে, অসীম ক্ষমতাশালী মহিষাসুর দেবতাদের স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করে এবং বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের অধীশ্বর হতে চায়। এরপরের গল্প তো আমরা সবাই জানি, মহাপরাক্রমশালী, অশুভ শক্তি মহিষাসুরকে দেবী দূর্গা বধ করে শান্তি ফিরিয়ে আনেন। 

তবে মহালয়া’র অন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য হচ্ছে– হিন্দু ধর্মে মনে করা হয় যে পিতৃপুরুষেরা এই সময়ে পরলোক থেকে ইহলোকে আসেন জল ও পিণ্ডলাভের আশায়। প্রয়াত পিতৃপুরুষদের জল-পিণ্ড প্রদান করে তাঁদের ‘তৃপ্ত’ করা হয় বলে মহালয়া একটা পূণ্য তিথি। 

দেবী দূর্গার আগমনের এই সূচনালগ্নে চট্টগ্রামের বিখ্যাত তবলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান  ‘তালতীর্থ তবলা শিক্ষা ও শিল্পী নিকেতন’ আয়োজন করে “আগমনীর আবাহন” শীর্ষক ফেসবুক লাইভ অনুষ্ঠানের।

লহড়া পরিবেশন করছেন— অপরূপ চৌধুরী, অর্জন মল্লিক, জ্যোতির্ময় আচার্য, কনক বিশ্বাস’।।

অনুষ্ঠানের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় তবলা লহড়া পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। প্রতিষ্ঠানটির চারজন সদস্য অপরূপ চৌধুরী, অর্জন মল্লিক, জ্যোতির্ময় আচার্য, কনক বিশ্বাস’র অনবদ্য পরিবেশনায় আয়োজনটি শুরুতেই দর্শক শ্রোতাদের নজর কাড়ে।

  

নৃত্য পরিবেশনায়– নৃত্যশিল্পী হিল্লোল দাশ ও সুরভি দাশ তিথি

এর পরপরই মহালয়ার চিরাচরিত গান ‘বাজলো তোমার আলোর বেনু ‘ র সাথে নৃত্য পরিবেশন করেন — নৃত্যশিল্পী হিল্লোল দাশ ও সুরভি দাস তিথী।

অনুষ্ঠানে তবলায় একক লহড়া বাজিয়ে মুগ্ধতা ছড়ান তবলাশিল্পী সজীব বিশ্বাস। 

সংগীতশিল্পী পৃথুলা বিশ্বাস, সমরীতা মজুমদার এবং শ্রীয়া চৌধুরী শ্যামা সংগীত সহ বিভিন্ন ভক্তিমূলক গানে সুর-তাল- লয়ে দেবী দূর্গাকে আহ্বান জানান।

সংগীতশিল্পী পিন্টু ঘোষ

অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে বিখ্যাত রেডিও ও বেতার শিল্পী পিন্টু ঘোষ’র মাতৃ বন্দনার মধ্য দিয়ে। 

তালতীর্থ’র এই ‘ আগমনীর আবাহন’ শীর্ষক ফেসবুক লাইভ অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন – উত্তম কুমার দত্ত এবং তিথী দাশ।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন – তালতীর্থ তবলা শিক্ষা ও শিল্পী নিকেতনের পরিচালক, ওস্তাদ শ্রী সুদেব কুমার দাশ।

অনুষ্ঠান সম্পাদনায় ছিলেন – অপরূপ চৌধুরী।