প্রকাশিত হতে যাচ্ছে তরুণ লেখক নাহিদ আহসানের মায়ের নীল শাড়ি

লেখালিখির জগত কিংবা সাহিত্যজগতে তরুণদের মধ্য থেকে আরেকটি নাম উঠে আসছে নাহিদ আহসান। আগামী একুশে বইমেলায় যার প্রথম মৌলিক গল্পগ্রন্থ 'মায়ের নীল শাড়ি' প্রকাশ পাচ্ছে।

72

বাংলাদেশের লেখালিখি কিংবা সাহিত্যজগতে একেবারে তরুণদের মধ্য থেকে উঠে আসা আরেকটি নাম ‘নাহিদ আহসান’। এতটুকু বয়স থেকেই ভেবেছেন, লিখেছেন, লেখালিখি নিয়ে কাজ করছেন স্পষ্টভাবেই। সাথে রয়েছে দক্ষ সাংগঠনিক পথচলা। খুব অল্প সময়ে দাঁড় করিয়েছেন সামাজিক সংগঠন’ স্বপ্নদ্রষ্টা ‘। মেহনতি মানুষ কিংবা অসহায়, দুঃস্থদের মাঝে নিয়ে গিয়ে দাঁড় করিয়েছেন, নিজেকে, নিজের সংগঠনকে, পাশে থেকেছেন তাদের। বন্যা কিংবা যেকোন অসময়ে তাদের নিয়ে নাহিদ ও তাঁর সংগঠনের কার্যক্রম চলতে থাকে।

এসবের পাশাপাশি লেখক নাহিদের আরেকটি পরিচয় সে একজন ভালো উপস্থাপক। 

জন্ম, বেড়ে ওঠা দুটোই ঢাকাতে। 

সেই কৈশোর থেকেই বাড়িতে আসা পত্রিকার সাহিত্য অংশ পড়তে ভালোবাসতেন। পড়তেন তখনকার সব নামিদামি ম্যাগাজিনও। প্রত্যক্ষভাবে লেখালেখির সঙ্গে বাড়ির কেউ জড়িত না থাকলেও নিজের ভালো লাগা আর ভালোবাসার জায়গা থেকে লেখালেখিতে মনোযোগী হন।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক কাটিয়েছন শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজে। ছোটবেলায় লেখালেখি ও সাহিত্যের প্রতি যে তার টান ছিল, সেটির প্রতিফলন ঘটেছিল এই স্কুল জীবনে। 

২০১১ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে থাকাকালীন স্কুলের বার্ষিক ম্যাগাজিনে কৌতুক লিখে জমা দেন এবং তা প্রকাশিত হয়। ২০১২-১৩ সালে সপ্তম-অষ্টম শ্রেণিতে থাকাকালীন তার গল্প প্রকাশিত হয়। লেখালেখির প্রতি আগ্রহের জায়গাটা সেখান থেকেই শুরু।

উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হন দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে। সেখানে সাংগঠনিক যোগ্যতা ও দক্ষতার কারণে কলেজের নিউট্রিনো এসিসি সায়েন্স ক্লাবের অলিম্পিয়াড সেক্টরের ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্বও পালন করেন। 

 ২০১৭ সালে বাংলাদেশের প্রথম শিশু কিশোর ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘চ্যানেল আগামী ‘ আয়োজন করে ‘গ-তে গল্পকার’ ইভেন্ট’র। 

সেখানে তিনি অংশগ্রহণ করে ‘সেরা গল্পকার’ হিসেবে পুরস্কারও পান। সেবছরই আগামীর উদ্যোগে একুশে বইমেলায় অন্বয় প্রকাশনীর ‘একুশ গল্প’ নামক বইতে নাহিদের প্রথম গল্প প্রকাশিত হয়। তিনি জানান, ‘এতে তার লেখালেখির প্রতি ভালোবাসা যেমন বেড়ে গিয়েছিল, তেমনি নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস অর্জন করতেও সক্ষম হয়েছিলেন।’

বর্তমান এই তরুণ লেখক পড়াশুনা করছেন বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির ডিপার্টমেন্ট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের দ্বিতীয় বর্ষে। 

তাঁর ইচ্ছে ছিল এ বছর একুশে বইমেলাতেই নিজের লেখা কোনো বই প্রকাশ করবেন। কিন্তু, নানা জটিলতার কারণে তা সম্ভব না হলেও আগামী একুশে বইমেলায় প্রকাশ করতে যাচ্ছেন স্বরচিত প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘মায়ের নীল শাড়ি’। যার প্রকাশনায় রয়েছে পুস্তক প্রকাশন ও প্রচ্ছদ করেছেন সাহাদাত হোসাইন। 

শিক্ষণীয় থেকে গভীর আবেগ-অনুভূতি, আবার বন্ধুত্ব, ষড়যন্ত্র, হাসি ও মন খারাপের গল্প সব মিলিয়েই তরুণ লেখক নাহিদ আহসানের প্রথম মৌলিক গ্রন্থ ‘ মায়ের নীল শাড়ি’।। 

তাঁর প্রিয় লেখকদের মধ্যে রয়েছেন- রবীন্দ্রনাথ থেকে নজরুল, হুমায়ূন আহমেদ, আহমদ ছফা ও বর্তমান সময়কার কিঙ্কর আহসান, তকিব তৌফিক, রিয়াজ ফাহমীসহ আরও অনেকে।

নাহিদ আহসান বলেন, ” সাধারণ ভাবেই জীবনযাপন করতে ভালোবাসি আমি। জীবনে সুখি হতে খুব বেশি কিছু যেমন প্রয়োজন নয়, তেমনই কাউকে খুশি করতেও খুব বেশি কিছু প্রয়োজন পড়ে না। পরিবারের সাথেই থাকতে ভালোবাসি বেশি। বিশাল সব কর্মযজ্ঞের এই জীবন বাবা-মা’কে ভালোবেসেই কাটাতে চাই। “

তিনি আরও বলেন, ” সাধারণ মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার একটা তীব্র আকাঙখা আমার মধ্যে বিরাজ করে, তাই আমি আরও বেশি বেশি মানুষের জন্য কাজ করার সাহস পাই। আমার জীবনে এই একটা অর্জনই থাকুক, অনেক অনেক মানুষ আমাকে ভালোবাসুক। “

নাহিদ আহসান আরও জানান তার অনুপ্রেরণার জায়গায় অসংখ্য মানুষ থাকলেও দিনশেষে নিজেকেই নিজের মূল অনুপ্রেরণা মনে করেন। দিনশেষে তার লক্ষ্য নাহিদ আহসান হয়ে উঠা, অন্য কেউ নয়।

শেষমেশ নাহিদ জানান, ” মানুষের জন্যেই কাজ করতে চাই। লিখে যেতে চাই এক জীবন। স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে চাই। অনুপ্রেরণা দিতে কথা বলতে চাই। এই সুন্দর বাংলাদেশ বইয়ের হোক। মানুষ বেশি বেশি বই পড়ুক কারণ বই’ই পারে একজনকে সত্যিকারের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে। “

লিখেছেন : ইভান পাল।।