বিশ্বের সবচাইতে বড় তুষার উৎসব এর গল্প

বিশ্বের সবচাইতে সবচেয়ে বড় তুষার উৎসব'র আয়োজন করা হয় চীনের হারবিনে।

13

বাঙ্গালী সমাজিক এবং জনজীবনে বৃষ্টির একটা বড়ো ভূমিকা আছে। আগে বর্ষা কালে জলাশয় গুলোতে পানি আসলেই বৎসরে প্রথমবারের মতো ঘরের বউরা বাবার বাড়িতে যাবার সুযোগ পেতো। গ্রাম্য ভাষায় এটিকে “নাইউর” বলা হয়। এছাড়াও জলাশয় গুলো স্রোতস্বিনী হওয়ার সাথে সাথেই নৌকাবাইচ সহ নানা দলগত খেলা রাখা হতো। তাই বৃষ্টি বাঙ্গালী সমাজে উদযাপনের বড়ো একটি মাধ্যম।

শীতপ্রধান অঞ্চলগুলোর জনগোষ্ঠীরা এগুলো থেকে বঞ্চিত হন। কিন্ত তারাও কম যান না। তুষার পাত শুরু হওয়ার পর থেকেই তারা বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন শুরু করে, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে  ‘তুষার উৎসব’।  আর  আজ আমি লিখতে বসেছি ‘পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো তুষার উৎসব ‘ নিয়ে।

পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো তুষার উৎসব আয়োজন করা হয় চীনের হারবিনে। এটি চীনের উত্তর পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত, সাইবেরিয়ার ঠান্ডা বায়ু এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে প্রবাহমান। শীতকালে হারবিনের তাপমাত্রা প্রায় মাইনাস ১৬.৮° সেলসিয়াসে নেমে যায়। জায়গার নাম অনুসারেই এই  অনুষ্ঠানের নাম “Harbin International Ice and Snow Festival “।

২০১৮ সালে ১.৮ কোটি লোক এই  বিরল প্রদর্শনী দেখতে আসে। ১৯৬৩ সাল থেকে এই অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রথমদিকে এই উৎসবে চাইনিজরাই শুধু অংশগ্রহণ করতো, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্নো আর্টিস্টরা এই উৎসবে অংশগ্রহণ করে।  

চীনের এই উৎসবটিই বিশ্বের সবচেয়ে বড় বরফ-তুষার উৎসব। 

প্রতি বছর ৫ জানুয়ারি উৎসবটি শুরু হয় যা শেষ হয় ৫ ফেব্রুয়ারি। মাসব্যাপী চলা এই উৎসবের আকর্ষণীয় কিছু ভাস্কর্য অনেক সময় দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগেই পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

পুরো শহরেই এই ফেস্টিভাল চলে। 

প্রদর্শনীর দু’টি মূল এলাকা হলোঃ

  • সান আইল্যান্ড
  • আইস এন্ড স্নো ওয়ার্ল্ড

সান আইল্যান্ডঃ

এখানে সব দৈত্যাকৃতির তুষার স্থাপনা গুলো থাকে। এটি সাংহুয়া নদীর বিপরীতে অবস্থিত।

আইস এন্ড স্নো ওয়ার্ল্ডঃ

৮০ হেক্টরের চেয়েও বড়ো জায়গা নিয়ে এই পার্ক গঠিত। ফেস্টিভাল চলাকালীন সময় বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত বড়ো বড়ো আইস ব্লক দিয়ে বানানো বিল্ডিং, স্লিপার,ক্যাসেল ইত্যাদির প্রদর্শনী চলে। পার্কের মনোমুগ্ধকর লাইটিং  স্বছ  আইস ব্লকের  ওপর পড়লে এক মোহময় পরিবেশ তৈরী করে। 

১৯৯৯ সালে প্রথমবারের মতো শতাব্দী উদযাপন উপলক্ষে এই পার্ক খোলা হয়েছিল। প্রতিবছর অনুষ্ঠান উপলক্ষে পার্কটি রি-ডিজাইন করা হয়।

এছাড়াও দর্শনার্থীদের জন্য পুরো শহর জুড়েই বিভিন্ন ধরনের আয়োজন থাকে, যেমনঃ ইয়াবুলি এল্পাইন স্কিইং, সাংহুয়া নদীর শীতল জলে সাতার কাটা,জাওলিন গার্ডেনে আইস ল্যাটার্ন প্রদর্শনী ইত্যাদি। 

সাংহুয়া নদী থেকে বরফ নিয়ে এসে তা কাঠ কাটার করাত দিয়ে কেটে ব্লক তৈরী করা হয়। তারপর তার উপরে বাটালী হাতুড়ি পিটিয়ে রাত দিন পরিশ্রম করে তাতে রুপ দেন শিল্পী রা। আয়নার মতো সচ্ছ বরফ বানাতে তারা ডি-আয়োনাইজড পানির সাহায্য নেন।

স্থাপত্যকে কোনো রং দিতে তারা ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের আলোক সজ্জা। যা স্থাপত্যগুলোতে করে তোলে আরো প্রাণবন্ত। বিভিন্ন স্থাপত্যের ধরণ এবং শৈলী, মানুষ,জীব-জন্তু এবং পৌরাণিক প্রাণী,  বরফের স্লাইড ইত্যাদি সবই তাদের স্থাপত্য এর অংশ।

হারবিন এর উৎসব ছাড়াও পৃথিবীতে আরো বিভিন্ন জায়গায় বড়ো বড়ো তুষার উৎসব হয়। যেমনঃ জাপানের সাপরো ফেস্টিভাল,কানাডার কুইবেক শহরের উইন্টার ফেস্টিভাল, নরওয়ের স্কি ফেস্টিভাল ইত্যাদি। জীবনে সময় সুযোগ পেলে ঘুরে আসতে পারেন এইসব অসাধারণ ফেস্টিভাল গুলো থেকে।

লিখেছেনঃ মৈনাক গুহ