সোয়াদ বসুনিয়ার গল্পঃ ঐশী

66

কোনো এক বসন্তের শেষ রাতে ঐশী জীবনের সব পথ হারিয়ে আমাদের এই নগরীর ব্যস্ততম রাস্তার মাঝে দারিয়ে এই জীবন রাখবেনা ভেবে দীর্ঘশ্বাস ফেলছে। রাস্তার দুপাশেই শহরের সবথেকে ব্যস্ত লোকগুলো তাদের লাখটাকার গাড়িতে বাড়ি ফিরছে। ঐশী জানে ওই লোকগুলো তাদের গাড়ির সামনে দাড়ালে পিষে দিয়ে চলে যাবে, ফিরেও তাকাবে না। তাই মরে যাওয়া নিয়ে তাকে তেমন ভাবতে হচ্ছে না। জাস্ট এক লাফ, কোনো গাড়ির সামনে।

কেমন একটা ভ্যাপ্সা গরম পরেছে, হাঠাৎ একটা দমকা হাওয়া ঐশীর চুল ছুয়ে গেলো। ভিতরে কেমন একটা শান্তি অনুভব করলো ঐশী। কিন্তু এতো অশান্তির মাঝে শান্তির অনুভূতি আসে কিভাবে, ঐশী তা ভেবে পেলোনা। হঠাৎ তার মনে হতে লাগলো সামনের দিক থেকে ছুটে আসা সাদা আলোর গাড়িগুলোই সুখ। যা খুব দ্রুত আসে আর খুব দ্রুত চলে যায়। আর পিছন দিক থেকে ছুটে আসা লাল আলোর গাড়ি গুলো আসলে দুঃখ।

যেটা আমাদের বেখেয়ালেই চলে আসে, আর তার রেশ থেকে যায় বহুক্ষণ জুড়ে। ঠিক গাড়ির পিছনের লাল আলোটার মতো। আমরা সবাই এই সুখ আর দুঃখের পিছনেই ছুটে চলি সারাজীবন। ঐশী ভাবছে তার জীবনে আর কোনো সুখের আশা নেই, সারাজীবন দুঃখ সাথী করে বেচ থেকে লাভ কি আর। হঠাৎ করে খুব ঝড় শুরু হলো, এই গরমের শহরে একটু স্বস্তি ফিরে এলো, ঐশী খেয়াল করলো আস্তে আস্তে রাস্তাটা শান্ত হয়ে আসছে, ঝড় যতো বাড়ছে গাড়ী চলাচল ততোই কমছে, একটা সময় সব গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গেলো।

তাহলে সুখ, দুঃখ কি সব চলে গেলো! এক অনাবিল সুন্দর ঢাকা সোডিয়াম লাইটের আলোয় ঐশীর সামনে ফুটে উঠলো। এমন ঢাকা আগে কখনো দেখেনি ঐশী। রাস্তা পাশে যে সোডিয়াম লাইট থাকে সেটাই তো কখনও খেয়াল করেনি কখনো। আমাদের এই ব্যস্ত জীবনে আমরা খেয়ালই করিনা অনেক কিছু। এই সোডিয়াম লাইটটা হলো সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদের মতো, যা সবসময় আমাদের মাথার উপরে থাকে, কিন্তু এই সুখ, দুঃখের হিসেব মেলাতে মেলাতে আমরা তা খেয়ালই করি না। ঐশীর সেদিন আর মরে যাওয়া হলোনা। এই সৌন্দর্য বারবার দেখতে চায় সে, আর এই আশীর্বাদ নিয়ে বেচে থাকতে চায় সারাজীবন।

লেখকঃ সোয়াদ বসুনিয়া, ক্রিয়েটিভ ভিজ্যুয়ালাইজার।