শুভ জম্মদিন বিয়ার গ্রিলস!

বিয়ার গ্রিলস, অসাধারণ সব গুণের অধিকারী এক মানব। যিনি একাধারে, একজন অভিযাত্রীক, লেখক, স্কাউটার এবং একজন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।।

48

নাছির উদ্দিন

ডিসকাভারি চ্যানেলের ‘ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড’ অনুষ্ঠান উপস্থাপনের মাধ্যমে যে মুখটি আজ বিশ্বের মুখে একজন এডভেঞ্চারার বা অভিযাত্রী হিসেবে খুবই পরিচিত তার জম্মদিন আজ। হ্যাঁ সবার সেই চেনা বিয়ার গ্রিলসের জম্মদিন আজ।

পুরো নাম এডওয়ার্ড মাইকেল বিয়ার গ্রিলস। জন্মগ্রহণ করেন ৭ই জুন ১৯৭৪ সালে যুক্তরাজ্যে। আমরা সবাই তাকে অভিযাত্রী হিসাবে চিনলেও তিনি একজন লেখক, অভিযাত্রী, টেলিভিশন উপস্থাপক, প্রেরণাদায়ী বক্তা এবং চিফ স্কাউটার। যার শৈশবের একমাত্র স্বপ্ন ছিলো এভারেস্ট  জয় করা।

ব্যক্তিগত জীবন

বিয়ার গ্রিলস তাঁর শৈশবের ৪ টি বছর অতিবাহিত করেন আয়ারল্যান্ডের ডোনাঘাডি এলাকায়। তাঁর পিতা মাইকেল গ্রিলস এবং মাতা  লেডি গ্রিলস প্যাট্রিসিয়া ফোর্ড দুইজনই ছিলেন রাজনীতিবিদ। তাঁর বোন লারা ফাউসেট তাঁর জন্মগ্রহণের এক সপ্তাহ বয়সে বিয়ার নামটি রেখেছিলেন। অতি অল্প বয়সেই গ্রিলস তাঁর বাবার কাছ থেকে পর্বতারোহন এবং নৌচালনা শিখেছেন। তাঁর বাবা নৌচালনায় দক্ষ ছিলেন। কৈশোরেই গ্রিলস স্কাইডাইভিং এবং কারাতে শেখেন। তিনি যোগ ও নিনজৎসু চর্চা করেন। আট বছর বয়সে তিনি কাব স্কাউট হন। গ্রিলস ইংরেজি, স্প্যানীয় এবং ফরাসি ভাষা জানেন। তিনি ধর্মে একজন খ্রিস্টান, এবং তিনি ধর্মবিশ্বাসকে তার জীবনের “মেরুদন্ড” হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিয়ার গ্রিলস ২০০০ সালে সারা গ্রিলসকে বিয়ে করেন।

সেনাবাহিনীতে যোগদান

শিক্ষাজীবন শেষ করে বিয়ার গ্রিলস সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন এবং তিনি ইউনাইটেড কিংডম স্পেশাল ফোর্সে কাজ করেন। ১৯৯৬ সালে গ্রিলস জাম্বিয়ায় একটি প্যারাশুট দূর্ঘটনার সম্মুখীন হলে তাঁর চিরতরে হাটাঁর ক্ষমতা বন্ধের সম্ভবনা দেখা দিলে তিনি পরবর্তী বারো মাস সকল কাজ থেকে বিরতি নেন। মানব সেবায় অবদান রাখার জন্যে ২০০৪ সালে গ্রিলসকে সম্মানসূচক পদ লেফটেন্যান্ট কমান্ডারে পদোন্নতি দেয়া হয়।

এভারেস্ট জয়

প্যারাশুট দূর্ঘটনায় আহত হয়ে যে গ্রিলসের চিরতরে হাটঁতে না পারার ক্ষমতা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা সে গ্রিলস দূর্ঘটনার ১৮ মাস পরেই ১৯৯৮ সালে ১৬ই মে এভারেস্ট জয় করেন। আট বছর বয়সে যখন তাঁর বাবা তাকে এভারেস্টের একটি ছবি উপহার দেন, তখনই গ্রিলসের মনে এভারেস্ট জয় করার ইচ্ছা জাগে। এভারেস্ট জয়ের মাধ্যমে মাত্র ২৩ বছর বয়সে তিনি গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস-এ সর্বকনিষ্ঠ ব্রিটিশ হিসেবে এভারেস্ট জয়ের রেকর্ড করেন। এমন গুরুতর আহত হবার পরেও তাঁর অদম্য ইচ্ছেকে দমিয়ে রাখতে পারেনি।

গণমাধ্যম

একটি ডিওডোরেন্টের (দুর্গন্ধনাশক পদার্থ) বিজ্ঞাপনের মধ্যে দিয়ে বিয়ার গ্রিলসের টেলিভিশন জগতে প্রবেশ। গ্রিলস ইন্টারনেটে পাঁচ পর্বের একটি সিরিজে উপস্থিত হন যেখানে তাকে নগর-জীবনে টিকে থাকার কৌশল দেখাতে হয়। ফ্রাইডে নাইট উইথ জোনাথন রোজ, অপরাহ্ন উইনফ্রে শো, দ্য টুনাইট শো উইথ যে লেনো, দ্য লেট শো ডেভিড লেটারম্যান ইত্যাদি টেলিভিশন  অনুষ্ঠানগুলোতে বিয়ার অংশগ্রহণ করেন। তাঁকে চলচ্চিত্রে অভিনয়েরও প্রস্তাব দেওয়া হয়।

লেখক

যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বেশি বিক্রিত বইয়ের তালিকায় স্থান পাই বিয়ারের লেখা প্রথম বই ফেসিং আপ এবং উইলিয়াম হিল স্পোর্টস বুক অফ দ্য ইয়ার পুরস্কার পাই তার দ্বিতীয় বই ফেসিং দ্য ফ্রোজেন অশেন

এছাড়াও তার লেখা অন্যান্য বই —- বর্ণ সারভাইভর: বিয়ার গ্রিলস, বিয়ার গ্রিলস আউটডোর অ্যাডভেঞ্চার, মিশন সারভাইভাল: গোল্ড অফ দ্য গডস, মিশন সারভাইভাল: ওয়ে অফ দ্য ওলফ, মিশন সারভাইভাল: স্যান্ডস অফ দ্য স্করপিয়ন, মিশন সারভাইভাল: ট্র্যাক্স অফ দ্য টাইগার ইত্যাদি। 

২০১১ সালে বিয়ার গ্রিলস আত্মজীবনী প্রকাশ করেন। এর নাম মাড, সোয়েট অ্যান্ড টিয়ারস: দ্য অটোবায়োগ্রাফি।

জনপ্রিয় টেলিভিশন প্রোগ্রামঃ Escape to the Legion : ২০০৫ সালে, বিয়ার প্রথম তার টিভি শো Escape to the Legion হাজির করেন। ৪ পর্বের এই শো তে বিয়ার ছাড়াও আরও ১১জন সাহারা মরুভুমিতে টিকে থাকা নিয়ে শুটিং করেন।

Born Survivor/Man vs. Wild

২০০৬ সালে বিয়ার প্রথম জনপ্রিয় টিভি সিরিজ Man vs. Wild শুরু করেন। এই সিরিজ এর বর্তমান দর্শক সংখ্যা ১.২ বিলিওনের ও বেশি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিকূল পরিবেশে এই সিরিজের ৬৮ টি এপিসোড বের হয়েছে। এ ছাড়াও Man vs Wild-Worst Case Scenario এর ১২ টি এপিসোড বের হয়েছে।

স্কাউটার

১৭ মে, ২০০৯ সালে বিশ্বের ২৮ মিলিয়ন স্কাউটদের মধ্যে বিয়ারকে চিফ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তিনিই এই পর্যন্ত সর্বকনিষ্ঠ চিফ স্কাউট হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তিনি বর্তমানে বিশ্ব স্কাউট আন্দোলনের প্রধান স্কাউটার এবং যুক্তরাজ্যের প্রধান স্কাউটার হিসেবে নিযুক্ত আছেন।

সবশেষে, বিয়ার গ্রিলস তাঁর লেখনিতে এবং টেলিভিশন উপস্থাপনায় যেভাবে অভিযাত্রী আর প্রতিকূল পরিবেশে কিভাবে টিকে থাকতে হয় সেটা শিখিয়েছেন তেমনি শিখিয়েছেন অসম্ভবকে সম্ভব করার কাজটি। যেখানে ডাক্তার তাঁকে হাঁটা অনিশ্চিত বলেছিলো সেখানে তিনি মাত্র ১৮ মাসের মাথায় দৌড়াতে শুরু করে আর বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেন।

চ্যানেল আগামী’র পক্ষ থেকে অসাধারণ গুণের অধিকারী এই মানুষটিকে জন্মদিনের অনেক শুভেচ্ছা-ভালোবাসা।।  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here