শুভ জন্মদিন ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’

9

ইভান পাল  ।।

আজ ১ জুলাই। ১৯২১ সালের আজকের দিনটিতেই আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত  ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’।     

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরোনো বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়। 

জন্মলগ্ন থেকে শিক্ষা, সংস্কৃতি চর্চা, গবেষণা ও জাতীয়ভাবে অবদানের ক্ষেত্রে নিজের অবস্থান প্রথম স্থানেই ধরে রেখেছে রাজধানী ঢাকা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।   

দেশের বহু জ্ঞানীগুণী, পণ্ডিত, শিল্পী-সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদের জন্ম হয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এছাড়া, আমাদের দেশের ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতার ইতিহাস, মাঝখানে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ দেশের সব ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। দেশ বিভাগের পর পাকিস্তান আমল থেকেই দেশের বিভিন্ন নেতিবাচক ইস্যু নিয়ে ছাত্র আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দুও কিন্তু এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে প্রথিতযশা  ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন ‘ঢাকা স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী ‘ গ্রন্থে লিখেছেন,

বঙ্গভঙ্গ রদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। লর্ড লিটন যাকে বলেছিলেন স্প্লেনডিড ইম্পিরিয়াল কমপেনসেশন। পূর্ববঙ্গ শিক্ষাদীক্ষা, অর্থনীতি সব ক্ষেত্রেই পিছিয়ে ছিল। বঙ্গভঙ্গ হওয়ার পর এ অবস্থার খানিকটা পরিবর্তন হয়েছিল, বিশেষ করে শিক্ষার ক্ষেত্রে।

পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়। বাঙালিদের একরকম নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে আসে ব্রিটিশরা। দীর্ঘদিনের জন্য বাঙালি জাতির স্বাভাবিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়।

এ জানি, ব্রিটিশদের কাছে নিজেদের সংস্কৃতি, স্বাভাবিক জীবনকে শিকল পড়ানোর মতো ঘটনা ছিল। শিকল যখন পড়িয়েছে তখন তো বাঙালিরা সবকিছুতেই আবদ্ধ। বাঙালিদের সব্দিক থেকে তাদের দমিয়ে রাখতে প্রচেষ্টা করে। আর শিকল পড়া জাতি হিসেবে বাঙালির উন্নতির ধারা ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকে। 

তবে এসবের পরও বাঙালি সমাজের একটি অংশের শিক্ষিত হওয়ার প্রবণতা খুব বেশি লক্ষ করা যায়।

আর এই শিক্ষিত সমাজই প্রথম বাংলাদেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন অনুভব করেন। 

এরপর নানা ঘটনার অদল-বদল আর জন্ম নেয় ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’। যার হাত ধরেই বাঙালি জাতি লাভ করে কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। আধাঁর ভেঙ্গেছিল, বাঙালির চিন্তা চেতনায়। আর সেইসাথে আলোর বুনন ঘটেছিল বাঙালির শিক্ষা, সমাজ, সংস্কৃতি, জাতিগত পরিচয় আর বোধের জায়গাটুকুতে।

পূর্ববঙ্গ শিক্ষাদীক্ষা, অর্থনীতি সব ক্ষেত্রেই পিছিয়ে ছিল। 

এর আগে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলেও উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান পূর্ববঙ্গে ছিল না। 

বঙ্গভঙ্গ হওয়ার পর এ অবস্থার খানিকটা পরিবর্তন হয়েছিল, বিশেষ করে শিক্ষার ক্ষেত্রে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ছিল বাঙালি নাগরিক সমাজের সঙ্গে ব্রিটিশ সরকারের দীর্ঘ বোঝাপড়ার ফসল।

এর ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পথ আরও সুগম হয়। কিন্তু এর পরবর্তী বছরেই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের দামামা বেজে ওঠে। দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণের পথে শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়ায় এই যুদ্ধ। তবে এত সব প্রতিকূলতার মধ্যেও নাগরিক সমাজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যান।

বিশেষ করে বঙ্গভঙ্গ রদ হওয়ার পর ঢাকার স্থানীয় মুসলিম নেতারা ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, ধনবাড়ীর নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের জোরালো দাবির মুখে ১৯১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ। 

 ১৯১৩ সালে প্রকাশিত হয় নাথান কমিটির ইতিবাচক রিপোর্ট এবং সে বছরের ডিসেম্বর মাসেই এ প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। ১৯১৭ সালে গঠিত স্যাডলার কমিশনও ইতিবাচক প্রস্তাব দিলে ১৯২০ সালের ১৩ মার্চ ভারতীয় আইন সভা পাস করে দ্য ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট (অ্যাক্ট নং-১৩) ১৯২০। 

আইনটির বাস্তবায়নের ফলাফল হিসেবে ১৯২১ সালের ১ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’।

ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বার উন্মুক্ত হয় আজকের দিনে অর্থাৎ ১৯২১ সালের ১ জুলাই। সে সময়ে ঢাকার সবচেয়ে অভিজাত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত রমনা এলাকায় প্রায় ৬০০ একর জমির ওপর পূর্ববঙ্গ, আসাম প্রদেশের পরিত্যক্ত ভবনাদি এবং ঢাকা কলেজের (বর্তমান কার্জন হল) ভবনগুলোর সমন্বয়ে মনোরম পরিবেশে গড়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। 

আর প্রতিষ্ঠার এই দিনটিকেই প্রতিবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

সৃষ্টির শুরুতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়। কলকাতার তৎকালীন একটি শিক্ষিত মহল ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে। 

তিনটি অনুষদ ও ১২টি বিভাগ নিয়ে একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার যাত্রা শুরু করে। 

কলা, বিজ্ঞান ও আইন অনুষদের অন্তর্ভুক্ত ছিল বাংলা, ইংরেজি, শিক্ষা, ইতিহাস, আরবি, ইসলামিক স্টাডিজ, ফারসি ও উর্দু, দর্শন, অর্থনীতি ও রাজনীতি, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, গণিত ও আইন।

প্রথম শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন বিভাগে মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ছিল ৮৭৭ জন এবং শিক্ষকসংখ্যা ছিল মাত্র ৬০ জন। 

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী ছিলেন ইংরেজি বিভাগের লীলা নাগ। 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন অস্থিরতা ও ভারত বিভক্তি আন্দোলনের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা কিছুটা ব্যাহত হয়। 

১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর তৎকালীন পূর্ববঙ্গ তথা পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত প্রদেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে এ দেশের মানুষের মধ্যে আশা উজ্জীবিত হয়। 

১৯২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে গঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ। ছাত্র সংসদ ভূমিকা রাখে ছাত্রদের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামকে সংগঠিত করতে। 

১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে কার্জন হল প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের গর্ভনর জেনারেল মুহম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ তৎক্ষণাৎ প্রতিবাদ জানায়। 

ভাষা আন্দোলনকে চূড়ান্ত রূপদান করতেও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  

১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্তও এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বসেই গৃহীত হয়।  

শুধু ভাষা আন্দোলনই নয়, বাঙালির অধিকার আদায়ের প্রতিটি আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে এসেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী সবাই। ১৯৬২ সালে যে শিক্ষা আন্দোলন হয়েছিল,  আবার ’৬৯–এর গণ-অভ্যুত্থান তার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।   

আর আমরা তো জানিই যে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখার ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম সরাসরিভাবে যুক্ত।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আক্রমণের শিকার হয়। এতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ছাত্রছাত্রীসহ শহীদ হয়েছেন বহুজন। 

১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই কিন্তু প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলিত হয়েছিল। 

মার্চ মাসজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন–সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। ২৫ মার্চের ভয়াল কালরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতেই প্রথম আক্রমণ চালানো হয়। সংগ্রামী মনোভাবের কারণে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছিলেন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর চক্ষুশূল, ফলশ্রুতিতে—- পাকাহানাদারদের বর্বরোচিত হামলার শিকার হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহস্রাধিক ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারী।

মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় ধরে তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারীকে হত্যা করা হয়। আবার, ছাত্রদের বিশাল একটি অংশ মুক্তিযুদ্ধেও যোগদান করেন।

বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পরও দেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামকে নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৯০–এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনও এই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতারই অংশ।

তৎকালীন পূর্ববাংলার ৫৫টি কলেজ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৪৭-৭১ সময়ের মধ্যে পাঁচটি নতুন অনুষদ, ১৬টি নতুন বিভাগ ও চারটি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়।

দেশের সর্বপ্রাচীন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৩টি অনুষদ, ৭৭টি বিভাগ ১১টি ইনস্টিটিউট ও ৫১টি গবেষণাকেন্দ্র রয়েছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকের সংখ্যা এক হাজার ৮৮৫ জন। অফিসার সংখ্যা ৯৭৩ জন, তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীর সংখ্যা এক হাজার ৯৫ জন এবং চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর সংখ্যা দুই হাজার ৪৩৫ জন। 

ঢা.বি. ছাত্রছাত্রীদের থাকার জন্য রয়েছে ২০টি আবাসিক হল ও তিনটি হোস্টেল। ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা (২০১৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত) ৩৭ হাজার ৬৪ জন। এ ছাড়া পিএইচডি ডিগ্রিতে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা রয়েছে এক হাজার ৮৯ জন। এমফিল ডিগ্রিরত রয়েছেন এক হাজার ৬২০ জন। এযাবৎ কাল পিএইচডি ডিগ্রি নিয়েছেন এক হাজার ২৬২ ছাত্রছাত্রী। এবং এমফিল শেষ করেছেন এক হাজার ২১৭ জন। এ ছাড়া ২৮১টি ট্রাস্ট ফান্ড রয়েছে, অধিভুক্ত কলেজ রয়েছে ৯১টি, এসব প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রী রয়েছে ৩৫ হাজার ৮৪০ জন এবং শিক্ষক রয়েছে সাত হাজার ১০৩ জন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ১১টি ইনস্টিটিউট রয়েছে। এগুলো হচ্ছে— শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, পরিসংখ্যান গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট, পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট, তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউট, নবায়নযোগ্য শক্তি ইনস্টিটিউট, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও স্বেচ্ছাশ্রম ইনস্টিটিউট।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্রছাত্রীকে কোনো না কোনো হলের সাথে আবাসিক/অনাবাসিক ছাত্রছাত্রী হিসেবে যুক্ত থাকতে হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের জন্য ১৫টি এবং ছাত্রীদের জন্য পাঁচটি আবাসিক হল রয়েছে। এ ছাড়া চারুকলা ইনস্টিটিউট ও ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের ছাত্রছাত্রীদের জন্য রয়েছে আলাদা হোস্টেল এবং বিদেশি ছাত্রদের জন্য আন্তর্জাতিক ছাত্রাবাস।

ঐতিহাসিক স্থান 

প্রাচ্যের অক্সফোর্ডের ঐতিহাসিক স্থান থাকবে না এমনটা কি কখনো হয়। ঐতিহাসিক এই বিদ্যাপীঠটির কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থান— 

মধুর ক্যান্টিন

মধুর ক্যান্টিন, ডাকসু, টিএসসি, অপরাজেয় বাংলা, তিন নেতার মাজার, মীর জুমলার গেট, ডিমিট্রিয়াস, বুদ্ধিজীবী চত্বর, ঐতিহাসিক বটতলা, স্বোপার্জিত স্বাধীনতা, রাজু ভাস্কর্য, স্বাধীনতার সংগ্রাম, শান্তির পায়রা, স্মৃতিময় জগন্নাথ হল। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য

প্রতিষ্ঠার পর প্রথম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন স্যার পি জে হার্টস। ১৯২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৯২৫ সাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন।  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বাংলা ও বাঙালির ইতিহাস, বাংলাদেশের ইতিহাস। দেশের যেকোন  ক্রান্তিলগ্নে এই বিশ্ববিদ্যালয়ই সবার আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।

দেশের ইতিহাস, সমাজব্যবস্থা, অর্থনীতি—প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’র ভূমিকা অন্বষীকার্য। 

এখনো প্রতিবছর দেশের সর্বাধিক গ্র্যাজুয়েট এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই তৈরি হয়। 

সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে— আমাদের  জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও ছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই একজন ছাত্র। 

আবার তাঁরই সুযোগ্য কন্যা আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী ছিলেন।

এছাড়া সরকারের মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। 

প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত দেশের সর্বোচ্চ এই বিদ্যাপীঠ দিন দিন দেশকে আরও সমৃদ্ধ করবে, আধাঁর ভেঙ্গে আলোর বুনন ঘটাবে সবক্ষেত্রে এটিই সবার প্রত্যাশা।

দেশের সর্বোচ্চ এবং প্রাচীন এই বিদ্যাপীঠের প্রতিষ্ঠা দিবসে চ্যানেল আগামী‘ র শুভেচ্ছা ও শুভকামনা।।

শুভ জন্মদিন প্রাচ্যের অক্সফোর্ড।