“যত দিন যায় সাহিত্যও তত সহজ হয়”—কিঙ্কর আহসান। আড্ডায় আগামীতে কিঙ্করের সাথে আগামীর আড্ডা।।

320

ইভান পাল

গত কয়েকদিন যাবৎ চ্যানেল আগামী তার সকল পাঠকমহল, শুভানুধ্যায়ীদের একটা কথা বলে আসছিল। আর তা হলো, ২রা মে রবিবার একটা ইয়াবড়ো সারপ্রাইজ সবার জন্য তোলা আছে।

এই করোনা ভাইরাস মহামারির সময়ে সারাদেশের মানুষ যখন লক ডাউনে ঘর বন্দি তখন ২রা মে, ঠিক রাত সাড়ে ১০টায় চ্যানেল আগামীর ফেসবুক পেইজে সারপ্রাইজ কি হতে পারে, কি হতে পারে ভাবতে থাকা আগামীর সকল পাঠকমহল, শুভানুধ্যায়ীদের সামনে সেই সারপ্রাইজ নিয়ে যথাসময়ে হাজির হয় আগামী টিম।।

আর সে সারপ্রাইজটি হচ্ছে—- তরুণপ্রজন্মের অন্যতম সেরা একজন লেখক ” কিঙ্কর আহসান”।।
বর্তমানে “একজন বিনয়ী লেখক” এর উদাহরণ যদি কোন এক ক্ষুদে পাঠককেও জিজ্ঞেস করা হয়,তবে উত্তরটার শতভাগই আসবে ‘কিঙ্কর আহসান’।
বর্তমানের সাহিত্য জগতে অন্যতম প্রতিভাবান, সবার অনুপ্রেরণার, সকলের ভালোবাসার একজন প্রিয় ব্যক্তি এই ‘কিঙ্কর আহসান’।।।
আর এই সারপ্রাইজটি নিয়েই গত ২রা মে, রবিবার চ্যানেল আগামী পরিবার রাত সাড়ে ১০টায় ভার্চুয়াল আড্ডায় মেতেছিল– চ্যানেল আগামী প্রেজেন্ট “আড্ডায় আগামী” তে।
আর প্রিয় এই লেখকের সাথে আলোচনার মূল বিষয় ছিল “প্রজন্ম, সাহিত্য ও অভিভাবকদের দায়”।।
যার উপস্থাপনায় ছিলেন নাহিদ আহসান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন চ্যানেল আগামীর প্রধান নির্বাহী তানজিম রিফাত।

এই ভার্চুয়াল আড্ডাটির শুরুতেই করোনা ভাইরাস মহামারির দিনে এরকম একটি সাহিত্য আড্ডার আয়োজন নিয়ে কিঙ্কর চ্যানেল আগামীর ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং আগামী পরিবারের প্রতি সাধুবাদ জানান।
তিনি বলেন, করোনার দিনে সাহিত্য নিয়ে এধরনের আলাপ আলোচনা কিন্তু নিজেদেরকে ইতিবাচক রাখতেই। লক ডাউনের প্রথম ক’টা দিন ভালো লাগলেও, দিন দিন কিন্তু তা কঠিন হয়ে পড়ছে৷ প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্ত, এসবের পরেও নিজেদের সবসময়ই ইতিবাচক রাখতেই হবে। যার কোন বিকল্প নেই। আর এধরনের সৃষ্টিশীল আলোচনাগুলো, কাজগুলো একটু হলেও মানুষের মধ্যে ইতিবাচকতার বিকাশ ঘটাবে, মানুষ আতংক, দুশ্চিন্তা এসব নেতিবাচক ভাবনা থেকে কিছু সময়ের জন্য হলেও দূরে থাকতে পারবে।।
তিনি আরো বলেন,
আমি বিশ্বাস করি—

।। মানুষ খুব শক্তিশালী, মানুষ প্রবল উদ্যমে আবার ফিরে আসবে।।

আর এর পর পরই শুরু হয় আড্ডার মূল আসর। শুরুতেই আলোচনার দুটি গুরুত্বপূর্ণ মূল বিষয় — প্রজন্ম এবং সাহিত্য সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় লেখক কিঙ্কর আহসানের কাছে। অর্থাৎ, আদিযুগের এবং মধ্যযুগের সাহিত্য নিয়ে বর্তমান প্রজন্মের ভালোবাসা কিংবা ভালো লাগার জায়গা কতটা কাজ করে……

তখন এ প্রসঙ্গে লেখক বলেন, আদিযুগে সাহিত্য নিয়ে অতটা আহামরি ভাবনা চিন্তা কোন সাহিত্যিকেরই ওভাবে খুব একটা ছিল না৷ তখন মূলত, ভাষা নিয়েই ভাবা হচ্ছিল। যেভাবে, একটার পর একটা ইট গেঁথে গেঁথে ইমারত তৈরি করা হয়, ঠিক সেভাবেই আদিযুগে ভাষাকে কিভাবে গুছানো যায় তা নিয়েই ভাবা হচ্ছিল। সাহিত্য নিয়ে মনোযোগী ওভাবে কেউই ছিলেন না।
এরপর এলো মধ্যযুগ। মধ্যযুগে সাহিত্য নিয়ে একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। যেমন, শাহ মুহাম্মদ সগীর, চন্ডীদাস এঁদের জন্যই আস্তে আস্তে বাংলা সাহিত্যের দোর খুলছিল। তখন থেকেই বাংলা সাহিত্য নিয়ে তৈরি হচ্ছিল নতুন এক সম্ভাবনা।

আর এরপর এলো আধুনিক যুগ। যেখানে রবীন্দ্রনাথ একাই একটা বড়ো দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলেন, বাংলা ভাষা-সাহিত্য, সংস্কৃতি কে একটা সম্ভাবনাময় জায়গায় দাঁড় করানোর। আর তাতে তিনি শতভাগ সফলও। সমৃদ্ধ হলেন নিজেও পেলেন নোবেল পুরষ্কার। আবার সমৃদ্ধ করলেন বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতি জগতকেও।
আবার তাঁর সাথে যাঁরা যুক্ত হয়েছিলেন এই আধুনিক যুগের সাহিত্য সমৃদ্ধকরণের ধারায়, তন্মধ্যে কাজী নজরুল ইসলাম অন্যতম। এরপরে আরো অনেকেই এসেছেন এই আধুনিক যুগের সাহিত্য স্রোতধারায়। আর প্রতিবারই বাংলা সাহিত্যকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গিয়ে দাঁড় করিয়েছেন, সমৃদ্ধ করেছেন।

আর সাহিত্য যুগের সৃষ্টিগুলো নিয়ে নতুন প্রজন্মের ভালো লাগা বা ভালোবাসা বা সাহিত্যগুলোর গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে লেখক খুব সহজসাধ্যভাবে এক শব্দের একটি উদাহরণ দিয়েই শুরু করেন—-
এক সময় বলা হতো গতায়াত। পরে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এসে গতায়াত শব্দের পরিবর্তে ব্যবহার করা শুরু করলেন, যাতায়াত শব্দটি। তো, পাঠকরা বঙ্কিমের এই সহজসাধ্য শব্দকে বেছে নেন, আর আপন করে নেন বঙ্কিমকে। বঙ্কিম সৃষ্টিগুলোকে।
আজকের এই প্রবন্ধটির শিরোনাম কিন্তু যতদিন যায়, সাহিত্যও তত সহজ হয় ।।  যেটি লেখক কিঙ্কর আহসান গতকালকের আলোচনায় নিজেই বলেছেন,খুব সহজভাবে বলেছেন। আর কেনো তিনি একথা বলেছেন, তার সহজসাধ্য উদাহরণ উপরের ছোট্ট অনুচ্ছেদটিতে তো দেওয়াই আছে। সেই গতায়াত থেকে যাতায়াত এবং সাহিত্যের সহজতা।

তার মানে আবার এই না যে, কঠিন হলে পাঠকমহল সেই সাহিত্য কিংবা সাহিত্যযুগ বা যুগের সৃষ্টিকে গ্রহণ করবে না৷ পাঠকমহলের জন্য লেখকের সাহিত্য সৃষ্টির প্রাঞ্জলতা থাকলেই তা পাঠকমহলে অবশ্যই সাড়া ফেলবে, সমাদৃত হবে।।

আর আধুনিক যুগের সাহিত্যকে এখনো মূল্যায়ন করার সময় আসেনি। যদি করা যেত তবে জানা যেত, আধুনিক যুগ বাংলা সাহিত্যকে অনেক কিছু দিয়েছে।

আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ” অভিভাবকদের দায় ” নিয়ে কিঙ্কর বলেন —-
অবশ্যই, একটা সমাজ বা রাষ্ট্রে ভালো মানুষ তৈরি করতে গেলে পরিবার, অভিভাবক এবং চারপাশের পরিবেশের গুরুত্ব রয়েছে।।
রাষ্ট্রের সূতিকাগার হচ্ছে — পরিবার।।
যেকোন ক্ষেত্রে ভালো মানুষ তৈরি করতে গেলে ৬০-৭০ ভাগ দায় কিন্তু পরিবারের উপরই সবার প্রথমে বর্তায়। আর এরপরই আসে পাঠক বা অন্যান্যদের দায়িত্ব। কাজেই, সন্তানকে সাহিত্যমুখী করতে অভিভাবকদের ভূমিকা তো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ।
এ প্রসঙ্গে লেখক আরো বলেন—-
আমাদের দেশের ক্ষেত্রে লেখকদের আর্থিক নিরাপত্তার জায়গাটা অনেক কম। এজন্য লেখক হওয়া নিয়ে অভিভাবকদের তরফ থেকে উৎসাহেরও ঘাটতি থাকে। সংশয় কাজ করে।
আর বাংলা সাহিত্যের লেখকদের দিকে যদি আমরা একটু তাকাই তবে দেখি,
বাংলা সাহিত্যের লেখকদের কল্পনা করা হয়, তারা উদাসীন, ভবঘুরে, গরীব এরকম কিছু। যেটা বিশ্বের অন্য কোন দেশের ক্ষেত্রে দুষ্প্রাপ্য ঘটনা। আমাদের সমাজের এসব অসঙ্গতির কারণেই, অভিভাবকরা বুঝতে নারাজ, সন্তান ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হওয়া যেমন গর্বের, লেখক হওয়াও ঠিক ততটাই গর্বের।

আবার আজকালকার অভিভাবকমহলে একথাও প্রচলিত যে,  মানুষ হবার দরকার নেই, রাজা হও। যেটা এ সমাজের প্রেক্ষাপটে চরমতর বাস্তব সত্য কথা।
কিন্ত, আজকালকার অভিভাবক মহলে একটা কথা খুব কম শোনা যায়, তা হচ্ছে—
বই পড়লে শান্তিতে থাকে মানুষ, শুদ্ধ থাকে মানুষ ।  — একথা আজকাল শোনা যায় না।
তাই লেখক এ প্রসঙ্গে প্রতিবেশী দেশ ভারতের কলকাতায় বিলবোর্ডে টাঙানো বই নিয়ে একটা বাক্য টেনে নিয়ে বলেন—

পৃথিবীটা বইয়ের হোক ।। 

আমরা স্বপ্ন দেখি। আবার একটা সময় আমাদের সেই স্বপ্নটা আর নিজের থাকে না। তা ছড়িয়ে পড়ে। অনেকটা রস করেই যদি বলি, আমাদের সেই স্বপ্নটা চুরি হয়ে যায়। এ স্বপ্ন তখন সবার স্বপ্ন হয়ে দাঁড়ায়।
কলকাতার বিলবোর্ডে থাকা সেই বাক্য এখন আর কলকাতায় বই নিয়ে যারা কাজ করেন শুধুমাত্র তাদের স্বপ্ন হিসেবেই সীমাবদ্ধ নেই, তা এখন ঐযে একটু আগে বললাম চুরি হয়ে গিয়েছে। আসলেই সেই স্বপ্ন চুরি হয়ে গিয়েছে। তা এখন সবার স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সকল বইপ্রেমী পাঠক লেখকদের স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে— ” পৃথিবীটা বইয়ের হোক”।।
আর এ স্বপ্ন সত্যি করার পেছনে সবারই দায়িত্ব আছে। লেখক-পাঠক সবার।

বই পড়া, সাহিত্য, নতুন প্রজন্ম এসব নিয়ে কিন্তু প্রতিটি মানুষের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্ববহ। কেননা, পরিবারের পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানগুলোই কিন্তু একজন মানুষকে দাড়াঁতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গল্প লেখার ক্ষেত্রে গল্পের প্লট কিভাবে নির্ধারণ করা যাবে এবং গল্প লেখার ক্ষেত্রে তা কাল্পনিক হবে নাকি বাস্তবিক হবে এ প্রসঙ্গে আগামীর এই ফেসবুক লাইভ টেলিকাস্টে যুক্ত থাকা দর্শকের প্রশ্নে লেখক বলেন—-
গল্পের প্লট নির্ধারণের জন্য একজন লেখকের আলাদা চোখ থাকতে হবে। ভাবনার জায়গাটাও বড় করতে হবে৷ গল্পের প্লট চারপাশেই থাকে। গভীর ভাবে ভাবতে হবে, খুটিনাটি নিয়ে ভাবতে হবে, খুঁজে নিতে হবে আশপাশ থেকে।

আর ছোট গল্প লেখা অনেক কষ্ট। গল্প বাস্তব হবে না, কাল্পনিক হবে তা নির্ভর করে লেখকের উপর। আবার, বাস্তবতার সাথে কল্পনাও যুক্ত থাকতে পারে। পুরোটাই নির্ভর করে লেখকের উপর।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে তানজীম রিফাত (প্রধান নির্বাহী, চ্যানেল আগামী) লেখক কিঙ্কর আহসানের কাছে জানতে চান—

সৃজনশীলতা কি কোন ঐশ্বরিক ধারণা নাকি চর্চার বিষয়?

তানজীম রিফাতের একথা প্রসঙ্গে কিঙ্কর বলেন,
চর্চা তো অবশ্যই। কিন্তু, সেখানে কোন এক দিক থেকে একটু হলেও ঐশ্বরিকতারও একটা ব্যাপার থাকে৷ আর যেকোনো কিছুই চর্চা ছাড়া অসম্ভব। চর্চা লাগবেই। চর্চা, শ্রম, ইচ্ছাশক্তি। এসব নিয়েই কিন্তু সৃজনশীলতা।

আবার এ লেখালিখির অভ্যাস কখন মানুষের মধ্যে তৈরি হয়, তা কেউই বলতে পারে না। খ্যাতিমান সাহিত্যিক, হরিশঙ্কর জলদাস তাঁর জীবনের চল্লিশ বছর পর লেখালিখির জগতে আসেন।
লেখালিখির জায়গাটা হুট করেই আসে৷ তবে তাতে অবশ্যই চেষ্টা থাকতে হয়৷ লেখালিখি নিয়েও শেখার আছে অনেক কিছু। সেই শেখার জায়গাটা আমাদের এদেশে অনেক কম। কিন্ত, দেশের বাইরে প্রায় প্রতিনিয়তই এ নিয়ে কাজ চলে। বিভিন্ন ওয়ার্কশপ হয়। কিভাবে লেখালিখির জগতকে একজন নব্য লেখক সাজাতে পারবেন, গুছিয়ে দাঁড় করাতে পারবেন এসব নিয়ে।

বই নিয়ে লেখক কিংবা পাঠকের দায়িত্ব প্রসঙ্গে কিঙ্কর আহসান বলেন—-

পেটের ক্ষুধা যেমন মেটায় ভাত দিয়ে, তেমনি মনের ক্ষুধা মেটায় কিন্তু বই দিয়ে ।। 

বই একটা পণ্য। সৃজনশীল পণ্য। টাকা দিয়ে যেহেতু বই কিনতে হয় তাই অবশ্যই এটা একটা পণ্যই বটে!
তাই, বইয়ের বাজারটা আরও বড়ো হওয়া উচিত। সরকারি পৃষ্টপোষকতা থাকবে যেখানে অনেক বেশি। আমাদের প্রতিদিনের লাইফস্টাইলেই বই থাকতে হবে, থাকা উচিত।

ভালোবাসার শক্তি প্রবল। এ প্রসঙ্গে সাহিত্যিক জহির রায়হানের আরেক ফাল্গুন উপন্যাসের একটি উক্তি টেনে তিনি বলেন, ” আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুন হবো”।
বই নিয়ে নতুন প্রজন্ম এখন একটু ভাবলে, পরের দিনগুলোতে তা আরেকটু বাড়বে। তাদের বইয়ের প্রতি ধীরে ধীরে আগ্রহ জন্মাবে, আগ্রহ বাড়তে থাকবে। এক থেকে দুই হওয়া বা বইয়ের প্রতি সামান্য আগ্রহ থেকে তা বৃহৎ পরিসরে নিয়ে যাওয়া কোন কঠিন বিষয় না।
আমাদের দেশে সাহিত্যের জায়গাটা এখনো শিল্পের জায়গায় দাড়াঁইনি। যখনি এটা শিল্পের জায়গায় দাঁড়াবে, পাঠক-লেখকরা কাছাকাছি হবে, তখনই এই সমাজ, সমাজের মানুষের চিন্তাধারা, সেই সাথে অভিভাবকদের চিন্তাধারাও আস্তে আস্তে ইতিবাচকতায় রুপ নেবে৷

আর বই নিয়ে কিংবা লেখালিখি সংক্রান্ত সৃজনশীল জগত নিয়ে চ্যানেল আগামীর ভূমিকা সম্পর্কে তানজীম রিফাতের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন—
২০১২তে চ্যানেল আগামী ফেসবুকে জায়গা করে নেয়। ২০১৩ তে এ লক্ষ্যে কাজ করার জন্য আগামী চালু করে তাদের youtube চ্যানেল। আর, ২০১৪ তে খোলে তাদের ওয়েবসাইট।।তো সেই যাত্রা শুরুর মূহুর্ত থেকেই আগামীর মূল উদ্দেশ্যই ছিল, কোন রকম ধরা বাঁধা ছাড়াই টিনেজারদের সৃজনশীল জগতে শতভাগ উৎসাহিত করা। যাতে তারা তাদের স্বাধীন মত প্রকাশ করতে বা সৃজনশীল জগতে ভূমিকা রাখতে পারে। যা আগামী এখনো করে যাচ্ছে৷ এটা একটা বিরাট প্ল্যাটফর্ম আ চলে, টিনেজারদের সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানোর জন্য। যার গুরুত্বপূর্ণ একটা ধাপ হচ্ছে—  গ তে গল্পকার — অনুষ্ঠানটি। ২০১৭ সাল থেকে টিনেজারদের নিয়ে সৃজনশীল এ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে মেতে ওঠে আগামী পরিবার।।
আর সৃজনশীলতায় আগামীর দায়িত্ব প্রসঙ্গে আগামী প্রধান আরো বলেন, এখানে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানেরই একার কোন দায়িত্ব নেই বা দায়িত্ব থাকতেও পারে না। দায়িত্ব আছে সবার। সমাজের প্রতিটি স্তরের, প্রতিটি মানুষ যদি তার নিজ নিজ জায়গা থেকে চেষ্টা করেন তবে অবশ্যই এক্ষেত্রে ভালো কিছু ঘটবে।

আগামীর ফেসবুক পেইজ থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত এই আড্ডা-আলোচনায় মিনিট পাচেঁকের জন্য যুক্ত হয়েছিলেন চ্যানেল আগামীর দুই শুভানুধ্যায়ী।
একজন হচ্ছেন ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের ল্যাংগুয়েজ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তাসনীমুল হাসান তাকিদ।
পাঠকদের উদ্দেশ্যে বলে রাখা ভালো, লেখক কিঙ্কর আহসানও কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানেরই শিক্ষার্থী ছিলেন। তাই, যখন তিনি শুনলেন তাঁর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুজ তাঁর এই লাইভ আড্ডায় যুক্ত হয়েছেন তখন তিনি স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন।
কিছুক্ষণের জন্য তিনি ফিরে যান তার শৈশবের গল্পে, স্মৃতিচারণ করেন ছাত্রাবস্থায় তাঁর সেই ভালোবাসার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের।।

এসময় চ্যানেল আগামী পরিবার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের ল্যাংগুয়েজ ক্লাবের প্রতি। কারণ, তারা তাদের ফেসবুক গ্রুপ থেকে এ লাইভ অনুষ্ঠানটি শেয়ার করেছিল।

লেখক কিঙ্কর আহসান তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরই এই অনুজকে এই আড্ডায় পেয়ে বলেন,

জীবনে টাকা না, সম্পর্কটা জরুরি। সম্পর্ক শক্তিশালী হলে কোন কিছুই আটকাতে পারে না। সম্পর্ক বিশ্বাস বাড়ায়। তাই যেকোনো সম্পর্ককে সময় দেওয়া দরকার।। 

আর সবশেষে দ্বিতীয় যিনি এ আড্ডায় যুক্ত হন তিনি হলেন—-
কথাগুলো কিঙ্করের কিঙ্কর আহসানকে নিয়ে ফেসবুক গ্রুপের গ্রুপ মডারেটর আল-আমিন রাজু। তিনিও মিনিট পাঁচেকের মতো এ লাইভ আড্ডায় ছিলেন।

আড্ডা-আলোচনার শেষ পর্যায়ে কিঙ্কর আহসান বলেন,

জীবন মানেই সংগ্রাম। স্বপ্ন দেখতে হবে। আবার সেই স্বপ্নকে ধরে রাখতে হবে। তার জন্য প্রচুর পরিশ্রমও করতে হবে, যার কোন বিকল্প নেই।

আর আগামীর সাথে তাঁর এ আড্ডাকে এই লক ডাউনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় আড্ডা বলেন। সেই সাথে এরকম একটি ভিন্নধর্মী ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের আয়োজন করার জন্য তিনি আবারো আগামী পরিবারের প্রতি সাধুবাদ জানান।।

কিঙ্কর আহসানের জন্ম কুষ্টিয়ায় হলেও তাঁর শৈশব কেটেছে বরিশাল আর ঢাকায়। আর তাঁর
লেখালিখি জীবনের শুরু প্রচুর বই পড়া দিয়ে।
কমিকসের বই থেকে তিন গোয়েন্দা, মাসুদ রানা, জাফর ইকবাল, সুনীল হয়ে বুদ্ধদেব, নীরেন্দ্রনাথ, গুলজার, নাগিব মাহফুজ সব সব পড়ে ফেলা।
নিজের মনের কথাগুলো ডায়েরিতে লেখা থেকেই তাঁর লেখালিখির জগতে হাতেখড়ি। যেটা আরো এগিয়ে দেয়— বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হয়েই ‘প্রথম আলো’তে লেখালেখি দিয়ে। আর এভাবেই তার সৃষ্টিশীল জগতে এই বহুদূরের পথচলা।
২০২১ সালের বইমেলায় তাঁর দুটো উপন্যাস এবং একটা গল্পগ্রন্থ আসতে চলেছে —- “মকবরা” এবং ” জলপরানি “উপন্যাস।
আর “বাঘবিধবা” গল্পগ্রন্থ।।

এ পর্যন্ত তাঁর ১৩টি বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে— আঙ্গারধানি, রঙিলা কিতাব, মধ্যবিত্ত, রাজতন্ত্র, মখমলি মাফলার, বিবিয়ানা, মেঘডুবি উল্লেখযোগ্য।।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here