গাছ যখন সিরিয়াল কিলার

25

এ যেনো গাছ নয়, এক সিরিয়াল কিলার। হত্যা করছে তাও বলা যায় চুপি চুপি। একদম নিঃশব্দে। এমনি এক ঘটনার দেখা মিলেছিলো শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনে। প্রতিবেশী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পর্যটকদের কাছে অন্যতম দর্শনীয় স্থান হলো কলকাতা সংলগ্ন হাওড়ার শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন।

সেখানেই খোঁজ মিলেছে এমনি একাধিক রাক্ষুসে গাছের। হাওড়ার শিবপুরের আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু ভারতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে একটি প্রাচীন রূদ্রাক্ষ গাছের উধাও হয়ে যাওয়ার বিষয়ে তদন্ত করতে গিয়ে প্রকাশ্যে এলো কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য |

উধাও হওয়া কয়েকটি গাছের লাগানোর তথ্য নথিভুক্ত থাকলেও সেগুলি কাটার ব্যাপারে কোনো তথ্য কোথাও নথিভুক্ত নেই | তবে কি শেষ পর্যন্ত চোরেদের হাতে পড়ল বিরল প্রজাতির গাছগুলি?কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে থাকা সংরক্ষিত গাছগুলিকে যে কেউ কেটে নিতে পারে এ কথা মেনে নিতে পারছিলেন না উদ্যান কর্তৃপক্ষ।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, গত ৪–৫ বছরে ১৬২টি গাছকে গিলে ফেলেছে এই রাক্ষুসে গাছ।

বোটানিক্যাল গার্ডেনের উদ্ভিদ বিজ্ঞানী ড.‌ বসন্ত সিংহ বলেন, ‘‌সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০১৪–১৫ সাল থেকে এখানকার ১৬২টি গাছের কোনও খোঁজ নেই। এর মধ্যে রয়েছে একটি প্রাচীন বিরল প্রজাতির রূদ্রাক্ষ গাছও। উধাও হওয়া ১৬২ টি গাছ শিকার হয়েছে সাতটি রাক্ষুসে গাছের।  বৈজ্ঞানিক ভাষায় এদেরকে বলে মোরাসি পরিবারের গাছ। এই সাতটি গছের মধ্যে রয়েছে বট ও অশ্বত্থ গাছও। তাঁর কথায় আরও জানা যায় যে বোটানিকাল গার্ডেনের বিখ্যাত বিশালাকার বট গাছটি জন্মেছিল একটি খেজুর গাছের ওপর। তারপর ধীরে ধীরে খেজুর গাছটিকে বটগাছটি শিকড় ও ঝুরি দিয়ে জড়িয়ে নিয়ে মেরে ফেলে। উদ্যানের ১৬২ টি গছই মোরাসি জাতীয় গাছের শিকার। কিছু গাছ ইতিমধ্যেই মারা গেছে এবং কিছু গাছ এই মুহূর্তে মৃত্যুর কবলে।

বোটানিক্যাল গার্ডেনের যুগ্ম অধিকর্তা ওমর শরিফ বলেন, ‘‌মোরাসি জাতীয় এই রাক্ষুসে গাছ সাইলেন্ট কিলার হিসেবে কাজ করে। প্রথম দিকে বিষয়টি নজরে না এলে আক্রান্ত গাছকে বাঁচানো খুবই মুশকিল। তাই এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আমরা একটি বিশেষ নজরদারি দল তৈরি করেছি। কোনও গাছকে মোরাস জাতীয় গাছের কবলে পড়তে দেখলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা বলছেন, বহু বছর ধরেই এরকম রাক্ষুসে গাছ এই উদ্যানের অন্য অনেক গাছকেই গ্রাস করে নিচ্ছিল। এভাবে অনেক গাছেরই অস্তিত্ব বিলোপ হয়ে গেছে। সাধারণত এই মোরাস জাতীয় গাছের জন্ম হয় অন্য কোনও গাছের ওপর। তার পর গাছটি একটু বড় হলে নিজের ঝুড়ি দিয়ে ওই গাছটিকে জড়িয়ে মেরে ফেলে। তাই মোরাস জাতীয় গাছের ঝুড়ি বড় হওয়ার আগেই তাকে সরিয়ে ফেলতে হবে। না হলেই যে গাছের ওপর সে জন্মেছে, সেই গাছকেই অকালে মরতে হবে।

লিখেছেন:  নাছির উদ্দিন