শারদ শুভ ষষ্ঠীতে আগমনীর আগমন।

41

শরতের কাশফুলের শীতল হাওয়া ও শিউলী ফুলের সুবাস যেন প্রতিটি মুহূর্তেই মায়ের আগমনীর জানান দিয়ে যাচ্ছে। শঙ্খধ্বনীর প্রতিটি শব্দতরঙ্গই যেনো বলে দিচ্ছে আজ মহাষষ্ঠী। কল্পারম্ভ, বোধন আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে ষষ্ঠী পূজা হবে। মূলত ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়েই শুরু হল পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব। দেশের সবগুলো পূজামণ্ডপ মুখরিত হবে চণ্ডীপাঠ, ঢাকের বাজনা, উলুধ্বনি ও নানাবিধ আনন্দ অনুষঙ্গে।মহালয়ার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল দেবীর আবাহন। আজ মহাষষ্ঠীতে দেবী কৈলাস থেকে মর্ত্যলোকে এলেন।

দেবী দুর্গা

দুর্গাপূজা নবরাত্রির ষষ্ঠ দিনে শুরু হয় এবং এই দিনটিকে দুর্গা ষষ্ঠী বা মহাষষ্ঠী বলা হয়| এই দিনে দেবী দুর্গা কৈলাশের যাত্রা শেষ করে মর্তে আগমন করেন| ষষ্ঠী পূজার কিছু আকর্ষণীয় ধর্মীয় আচার রয়েছে| অনেক নারী দুর্গা ষষ্ঠীর দিনে একটি বিশেষ পূজা করে থাকেন| ষষ্ঠী হল কোনো চান্দ্র মাসের ষষ্ঠ দিন| এই দিন বংশধরদের কল্যাণ কামনায় নিবেদিত করা হয়| মায়েরা দুর্গা পূজার সময় তাদের সন্তানদের জন্য ষষ্ঠী পুজো করে থাকেন| যদিও ষষ্ঠী প্রতি মাসে একবার আসে, তবুও কোনো কোনো ষষ্ঠী বেশ গুরুত্বপূর্ণ| উদাহরণস্বরূপ, নীল ষষ্ঠীর দিনে সন্তানের কল্যাণের জন্য শিব ঠাকুর কে পুজো করা হয়ে থাকে| জামাই ষষ্ঠী জামাতার কল্যাণে নিবেদিত।
একইভাবে,দূর্গা ষষ্ঠী মায়েদের কাছে একটি বিশেষ দিন যেদিন তারা সন্তানের কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করে থাকেন| দেবী দুর্গাকে যেহেতু মহাবিশ্বের মাতা বলে ধারণা করা হয়, তাই দূর্গা ষষ্ঠী মায়েদের জন্য একটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে| এই দিনে, মায়েরা উপবাস করেন বা নির্দিষ্ট সীমিত খাবার খেয়ে থাকেন| তারা ‘অঞ্জলি’ দিয়ে থাকেন এবং তাদের সন্তানের সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করে থাকেন| দিন শুরু হয় দেবীর মুখ উন্মোচন করে, তারপর দুর্গাপূজার বোধন প্রক্রিয়া শুরু হয়| এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে সঙ্গেই দুর্গাপূজা পূর্ণ আড়ম্বর ও জাঁকজমকের সঙ্গে শুরু হয়।


শাস্ত্র তথা পঞ্জিকা মতে, এবারের দুর্গাপুজোয় মা আসছেন দোলায় চড়ে। যার ফলে প্রবল মড়ক প্রাক পুজোর সময় পর্যন্ত চলবে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে পুজোর আগে পর্যন্ত প্রবল মহামারীর পরিস্থিতি থেকে যাওয়ার সম্ভবনা প্রবল। ঠিক অন্যান্য বছরের মতো এই বছরটা নয়। তাই ঠিক অন্যান্য বারের দুর্গাপুজোর মতোও ২০২০ সালের দুর্গা পুজোওর রেশ একই রকম নেই! তবুও উমা ফিরবেন ঘরে, তাই বাঙালি এই বিশ্বজোড়া সংকটের মধ্যেও ঘরের মেয়েকে যথাসাধ্য বরণ করে নেওয়ার চেষ্টা করছে। করোনা মহামারীর এই সময়ে প্রতিটি মন্ডপে মন্ডপে রয়েছে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা। নির্দেশনা রয়েছে উপযুক্ত স্বাস্থ্য বিধি মেনে পূজা অর্চনা করার। ভক্তরা তাই দেশ ও দশের মঙ্গলের আশায় এবং করোনা থেকে মুক্তিলাভের আশায় দেবী দু্র্গার আরাধনা করছে।

-দিপু সরকার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here