একজন কথাসাহিত্যিক কিঙ্কর আহসান

734

১৯৮৯ সালের ৬ই জুলাই কুষ্টিয়ায় এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক কিঙ্কর আহসান। বাবার চাকুরীসূত্রে জন্মের পরই কুষ্টিয়া থেকে চলে আসতে হয় বরিশালে। পড়াশোনার শুরুটা সেখানেই। সেখানে কেটেছে দূরন্ত শৈশবও। এতোটা মধুর ছিলো সেই সময়টা, যেই স্মৃতিগুলো বুকপকেটে রেখে আজও গল্প বলে চলেন অত্যন্ত বিনয়ী এই লেখক। বাবা-মা এবং বড় বোন; এই লেখকের জীবন। ছোট্ট সেই দূরন্ত স্বভাবের ছেলে কিঙ্কর আজ দেশের অন্যতম জনপ্রিয় এক ব্যক্তিত্ব। বরিশাল জিলা স্কুলে শুরু হয় পড়াশোনা, ক্লাস ফাইভে চলে আসা হয় ঢাকায়। সেই থেকে আজ অব্দি তিনি ঢাকায়ই রয়ে গেছেন। পড়াশোনা করেছেন স্বনামধন্য ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। এস.এস.সি এবং এইচ.এস.সি ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ থেকেই দিয়েছিলেন।

শৈশব কেটেছে তার বড্ড আনন্দে। ঘুম থেকে উঠে রং চায়ের মাঝে বাটারবন ডুবিয়ে খেতে খেতে স্কুলের পোশাক পড়ে রওনা হতো স্কুলের পথে; বন্ধুদের সঙ্গে পায়ে পা মিলিয়ে হেলতে দুলতে স্কুলে যাওয়া, ক্লাসের ফাঁকে দুষ্টুমি এবং শিক্ষকদের বকা খাওয়ার মাঝেই শুরু হতো দিনের একাংশ। মাঝেমধ্যে সকালের নাশতায় থাকতো ভাত। মাঝেমধ্যে পান্তাভাতের সঙ্গে ডালভর্তা দিয়ে খেয়ে রওনা হতো স্কুলের উদ্দেশ্যে; আজকের এই কথাসাহিত্যিক কিঙ্কর আহসান।

বেশ কয়েকটি জায়গায় কিঙ্কর আহসান যখন কোন অনুষ্ঠানে গিয়ে বক্তব্য রাখেন, শৈশবের কথা ভাবতে গিয়ে বলেন, “শৈশব এমন একটা সময় যখন জীবন এতটা জটিল থাকে না। অন্য একজন কি বললো বা সমাজ কি বললো, এসব নিয়ে ভাবনা আসে না। শৈশবটা বরাবরই সহজ সরল এবং দূরন্ত মধুর।”

কথাসাহিত্যিক কিঙ্কর আহসান। ছবিসূত্রঃ কিঙ্কর আহসানের ফেইসবুক প্রোফাইল।

দূরন্তপনায় মত্ত শিশু কিঙ্কর আহসান স্কুলে গিয়ে ক্লাসের ফাঁকে মাঠে নেমে যেতেন ব্যাট এবং বল নিয়ে। তখনকার সময়ে ১২ টাকায় টেনিস বল পাওয়া যেত। তা কিনে নিয়েই শুরু হতো খেলা। মাঝেমধ্যে বল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় খেলা বন্ধ হয়ে যেত। কেননা তখনকার সময়ে ১২ টাকা অনেক মূল্যবান ছিল। খেলার মাঝে পুরষ্কারের ব্যবস্থাও করা হতো মাঝেমধ্যে, ১৩ টাকায় কেনা হতো মেডেল। পুরষ্কার হিসেবে এই মেডেলই যে সবকিছুর উর্ধ্বে তা আর কে না বুঝে। টেনিস বল কিনে শুধু যে ক্রিকেট খেলায় মেতে উঠতেন তা না, বন্ধুদের সঙ্গে মজার খেলা ‘বোম্ববাস্টিং’য়েও মেতে উঠতেন কিঙ্কর। একে অপরকে টেনিস বল ছুড়ে খেলতে হয় এই খেলা। প্রচন্ড দূরন্ত এই কিঙ্কর, বোম্ববাস্টিং খেলাতেও ছিলেন সমান পারদর্শী। খেলাধুলায় মোটামুটি পারদর্শী হলেও, ডোবায় বল পড়ে গেলে বড় ভাইয়ারা এই ছোট্ট কিঙ্করকে দিয়েই ডোবা বা নালা থেকে বল তোলাতেন। নালা বা ডোবা থেকে বল তুলতে পেরেই সেই সময়ের কিঙ্করের আনন্দের সীমা থাকতো না। খেলার মধ্যে বেশ বড় অবদান যে রেখেছে সে!

বাবার দেয়া টাকা থেকে, টাকা জমিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে লুকিয়ে যাওয়া হতো সিনেমা হলে। সেই সময়ের বাংলা ছবি মুক্তির পর যেন আর ঘরে থাকার জোঁ নেই। বন্ধুদের সাথে প্ল্যান করে লুকিয়ে চলে যেতেন হলে। তাছাড়া প্রতি শুক্রবার ৩ টার বাংলা সিনেমাও কখনও যেন কিঙ্করের চোখ ফাঁকি দিতে পারে নি। শুধুমাত্র যে ছবি দেখার প্রতিই ঝোঁক ছিলো কিঙ্কর আহসানের, তা নয়। টিফিনের জন্যে বাবা যেই টাকা দিতো, সেই টাকা থেকে জমিয়ে চলে যেতেন বইয়ের দোকানে। গিয়েই কিনে ফেলতেন মাসুদ রানা, তিন গোয়েন্দা, কমিক্সের বই থেকে শুরু করে নানান বই। গোয়েন্দা কাহিনীই প্রাধান্য পেত সেসবে।

প্রায়শই বাবা ৩ টাকা করে দিতেন পকেট খরচের জন্য। ১ টাকা দিয়ে পাওয়া যেত হালকা ডালের চটপটি, ২ টাকা দিলে চটপটির সেই পানসে ডালের সঙ্গে এক টুকরো যেন মাংসও মিলতো। এই ছিলো যেন অমৃত স্বাদের চটপটি। আর বাকি ১ টাকায় কিনতেন আইসক্রিম বা তেঁতুলের আচার। ৩ টাকা মনের সুখে খরচ করে চলে আসতেন বাসায়। ছাদে চলে গিয়ে উদাম শরীরে বসে থাকতেন। মাঝেমধ্যে শুয়ে আকাশ দেখতেন। আকাশ দিয়ে বিমান গেলে বন্ধুরা মিলে ঢিল ছুড়তেন। বাবার দেয়া সেই ৩ টাকার মধ্য থেকেই টাকা জমিয়ে ৩০ টাকা দিয়ে লাইব্রেরীর সদস্য হতেন কিঙ্কর, ২ টাকা দিয়ে সপ্তাহ খানেকের জন্য বই ভাড়া নিতে পারতেন যার ফলে। পড়া শেষ করে আবার ফেরত দিয়ে এসে অন্য বই নিয়ে আসতেন।

বিকেলভর বাহিরে খেলাধুলা করলেও সন্ধ্যা হলে চলে আসতেন বাসায়। এসেই দেখতেন মা ঘরে ধোঁয়া দিচ্ছে মশা তাড়ানোর জন্য। মশা তাড়িয়ে ভাত দিলে, সেই ভাত খেয়ে পড়তে বসতেন কিঙ্কর। পাশের বাড়ির বন্ধুর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জোরে জোরে চিৎকার করে পড়তেন। খেলাধুলায় যেমন আগ্রহী ছিলেন, পড়াশুনায়ও ঠিক ততোটাই, পড়াশুনাটা তার কাছে ছিলো গল্পের বইয়ে। অংক যেন মাথার উপর দিয়েই যেত সবসময়। অংকে ছিলেন বড্ড কাঁচা, যদিও সাইন্স নিয়ে পরবর্তীতে পড়েছেন। ছোট্টবেলার সেই ইত্যাদি, টিপু সুলতান দেখতে দেখতে কখন যে কিঙ্কর আহসান বড় হয়ে গেলো তা যেন তার আফসোসের মধ্যেই শুনতে পাওয়া যায়। বিভিন্ন প্রোগ্রামে এসে ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করেন তিনি।

কথাসাহিত্যিক কিঙ্কর আহসান। ছবিসূত্রঃ কিঙ্কর আহসানের ফেইসবুক প্রোফাইল।

কলেজ জীবন শেষে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার ইচ্ছা ছিলো আগে থেকেই। ছোট্টবেলার বই পাগল এই কিঙ্কর আহসান ধরে নিয়েছিলেন তিনি ইংরেজী বা বাংলা সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করবেন এবং লেখক হবেন। বাবা সানরাইজ কোচিং সেন্টারে ভর্তি করালেও, পরবর্তীতে ইউসিসি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হন শুধুমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য। পরীক্ষা দিয়ে টিকেও যান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বানিজ্য বিভাগে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন কেমন ছিলো তা যেন না বললেও বুঝতে পারা যায়। প্রচুর পরিমাণ সংগঠনের সঙ্গে জড়ানো থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক অনেক গ্রুপে একাধারে কাজ করেছেন কিঙ্কর আহসান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফিল্ম সোসাইটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্লাবে যুক্ত থেকে সাহিত্যের অঙ্গনের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন, কাজ করেছেন। সক্রিয় ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লেখক সংঘ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ, কন্ঠশীলন, মুক্তআসর, বিল্ড বেটার বাংলাদেশসহ আরও অনেকগুলো সংগঠনের সাথে। করেছেন সামাজিক কল্যাণমূলক কাজও। পুরো ক্যাম্পাস দাপিয়ে বেড়িয়েছেন ছোট্টবেলার সেই দূরন্ত কিঙ্কর আহসান।

ক্লাস এইট কিংবা নাইনে ডায়েরী কিংবা সুন্দর খাতায় লেখালেখির শুরু। আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় দেশের দৈনিক পত্রিকায় লেখার মাধ্যমে৷ অবাক হলেও সত্য এই কিঙ্কর আহসান এতসব সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার পরেও দেশের জনপ্রিয় সব দৈনিক পত্রিকায় লিখে গেছেন দিনের পর দিন। বছরের হিসাবে পাঁচ বছর হবে। দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন থেকে শুরু করে প্রথম আলো, কালের কন্ঠ, বাংলা নিউজ সহ দেশের শীর্ষ সারির সব দৈনিক পত্রিকাতেই লিখেছেন কিঙ্কর আহসান। অনলাইন পোর্টালেও তিনি লিখালিখি করতেন। বিভিন্ন জায়গায় তিনি ছোটগল্প লিখতেন। ছোটগল্প লেখার পাশাপাশি তিনি শিক্ষানবিস সাব-এডিটর ছিলেন কালের কন্ঠের ‘বাতিঘর’ পাতায়। ‘কে হতে চায় কোটিপতি’ টিভি শো’তে সহকারী স্ক্রিপ্ট রাইটার হিসেবে কাজ করেছেন। আরও বেশ কিছু জায়গার প্রধান স্ক্রিপ্ট রাইটার হিসেবে তিনি যুক্ত ছিলেন। সেই জায়গাগুলো হলো মার্কস অলরাউন্ডার’, ‘হ্যান্ডসাম দি আলটিমেট ম্যান পাওয়ার্ড বাই বাংলাদেশ নেভী’, ‘হাসতে মানা’ ও ‘বাংলাদেশ সুপার লীগ-গ্রান্ড লোগো আনভেইলিং’। লেখালেখির কাজে তখন তিনি বেশ পটু। সুন্দর, চমৎকার সব লেখনির মাধ্যমে তখন থেকেই তার পাঠক মহলের যাত্রা শুরু। প্রতিনিয়ত পত্রিকায় লিখালিখি করতে করতে একটা সময় যখন পাঠকদের একটা গোষ্ঠী তৈরী হয় যারা কিঙ্কর আহসানের লেখা প্রতিনিয়ত পড়ে, তাদের জন্য তখন কিঙ্কর আহসান বই লেখার পরিকল্পনা করেন। লেখালেখির পাশাপাশি টেলিফিল্মের কাজও করেছেন কিঙ্কর আহসান। ‘জলপরানি’, ‘পাতার নৌকা’ ও ‘ক্রিং ক্রিং’ টেলিফিল্মের কাজ দিয়ে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছেন কিঙ্কর আহসান।

পাঠকদের সঙ্গে লেখকের সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর। ছবিসূত্রঃ কিঙ্কর আহসানের ফেইসবুক প্রোফাইল।

বিজ্ঞাপনী সংস্থায়ও তিনি যুক্ত হন৷ বিজ্ঞাপনের গল্প নির্মাণে সহায়তা করেন৷ গল্প লিখেন, ডিরেকশন দেন। বিজ্ঞাপনী সংস্থায় ক্রিয়েটিভ সেক্টরে কাজ করেন৷ বিজ্ঞাপন নির্মাণেও যেন তিনি বেশ পটু। দেশের নামকরা জনপ্রিয় বিজ্ঞাপনগুলোর বেশিরভাগের গল্প কিঙ্কর আহসানের লেখা। কিঙ্কর আহ্সান চ্যানেল আইয়ের আই পজেটিভ এ ক্রিয়েটিভ গ্রুপ হেড হিসেবে কাজ করেছেন। সান কমিউনিকেশন এ চাকরি এবং এশিয়াটিক জেডব্লিউ টি এর ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করার পর বর্তমানে কর্মরত আছেন আজিয়াটার ‘আডা’ তে ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর হিসেবে। বিভিন্ন দিবসের বিভিন্ন গল্প নিয়ে হৃদয় ছোঁয়া সব বিজ্ঞাপন নির্মাণ করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন বেশ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সাথে ডকুমেন্টারি নির্মাণের কাজও করেছেন সর্বজন সমাদৃত কিঙ্কর।

দিনশেষে কিঙ্কর আহসান নিজেকে যা হিসেবে পরিচয় দিতে ভালোবাসেন তা হলো ‘লেখক’ এবং তার প্রিয় সব কাজের উর্ধ্বে হলো ‘বই’ লেখা। এই পর্যন্ত ১৩টি বই প্রকাশিত হয়েছে কিঙ্কর আহসানের। আঙ্গারধানি (উপন্যাস), কাঠের শরীর (গল্পগ্রন্থ), রঙিলা কিতাব (উপন্যাস), স্বর্ণভূমি (গল্পগ্রন্থ), মকবরা (উপন্যাস) ও আলাদিন জিন্দাবাদ (গল্পগ্রন্থ), মখমলি মাফলার, কিসসাপুরণ, মধ্যবিত্ত (উপন্যাস), রাজতন্ত্র (উপন্যাস), মেঘডুবি (উপন্যাস) এবং বিবিয়ানা (উপন্যাস)। মধ্যবিত্ত, মেঘডুবি এবং বিবিয়ানা দিয়ে পাঠক মহলের বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এতকিছু লিখলেও লেখকের ব্যক্তিগত পছন্দ ছোট গল্প। বইমেলা এলে লেখকের প্রাণ যেন আরও চঞ্চল হয়ে উঠে। প্রাণের প্রিয় এই মেলার সময়টাই যেন সবার প্রিয়। বই নিয়ে এই মেলা সেইক্ষেত্রে কিঙ্কর আহসানের কতোটা প্রিয় হতে পারে সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।

বইতে অটোগ্রাফ দিতে ব্যস্ত কিঙ্কর আহসান। ছবিসূত্রঃ কিঙ্কর আহসানের ফেইসবুক প্রোফাইল।

প্রথম প্রথম পরিবারে কিঙ্কর আহসানের বাবা তার লেখালেখিকে ভালোভাবে না নিলেও একটা সময়ে এসে লেখকের প্রধান সাহসে পরিণত হন। লেখকের পাঠক শুধু এই দেশেই নয়, বরঞ্চ দেশের বাইরেও লেখকের প্রচুর পাঠক রয়েছে। চিকিৎসার কারণে লেখক যখন তার বাবাকে নিয়ে কলকাতায় যান, কলকাতার প্রচুর পাঠকেরা কিঙ্কর আহসানের বাবাকে সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। সাধারণ মানুষের এই ভালোবাসা দেখে লেখকের বাবা মুগ্ধ হন এবং হয়ে উঠেন নিজের সন্তানের সবচাইতে বড় শক্তি। এই অর্জন কিঙ্কর আহসানের সবচাইতে বড় অর্জন৷ অনেক বেশি সংগ্রাম করতে হয়েছে এই বিষয়েও।

কলকাতায় লেখককে “মহাশ্বেতা দেবী সাহিত্য পুরষ্কার” পদকে ভূষিত করা হয়। এর পাশাপাশি লেখকের অর্জনের ঝুলি কিন্তু অনেক বড়। এক মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা এক দূরন্ত ছেলে বর্তমান সময়ের অন্যতম বিনয়ী একজন মানুষ হয়ে উঠবে এই কথা কে জানতো। সেই পরিবারটি এখন লেখককে নিয়ে অনেক বেশি গর্বিত। দেশ বিদেশের হাজারও মানুষ আজ কিঙ্কর আহসানের লেখাকে ভালোবাসে। লেখকের ব্যক্তিত্বকে ভালোবাসে।

মহাশ্বেতা দেবী সাহিত্য পুরষ্কার পদক গ্রহণকালে। ছবিসূত্রঃ কিঙ্কর আহসানের ফেইসবুক প্রোফাইল

সাহিত্য নিয়ে কাজ করার প্রচন্ড ইচ্ছা নিয়ে বেড়ে উঠা এই লেখকের মন টানে এই পৃথিবীতে যেন বইয়ের কথা ছড়িয়ে যাক। পৃথিবীটা যেন বইয়ের হয়। বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বের অঙ্গনে ছড়িয়ে দিতে লেখকের এই প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়। দেশ ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতে এই লেখা দেখতে পাওয়া যায়। বিলবোর্ডে বড় করে লেখা থাকে ‘পৃথিবী বইয়ের হোক’। কলকাতা, জাপান থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশের বইমেলা ভ্রমণ করতে বেশ ভালোবাসেন কিঙ্কর আহসান। বইয়ের জন্য ছুটে চলেন এদেশ থেকে সেই দেশ। বিভিন্ন দেশের বইমেলা ভ্রমণ করার সুবাদে সেসব দেশের লেখক-পাঠক সম্প্রদায়ের সাথে মেশার সু্যোগ হয়, অইসব দেশের বই নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ দেখার সু্যোগ হয়। এই বিষয়ে বেশ আক্ষেপ জন্মায় লেখক কিঙ্কর আহসানের মনে। অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে নেই এত আগ্রহ। লেখকদের নেই পর্যাপ্ত সম্মান। বইয়ের গল্প কম হয়। বই নিয়ে মানুষ আগ্রহী হয় না। পহেলা ফাল্গুনে পঁচিশ লক্ষাধিক মানুষ বইমেলায় গেলেও বই বিক্রি হয় কয়েক হাজার মাত্র। সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশে বই ছড়িয়ে দিতে বদ্ধ পরিকর এই কিঙ্কর আহসান। বই নিয়ে দেশে সর্বপ্রথম বিজ্ঞাপনও তার করা। বাহিরের দেশগুলোতে বই, বইয়ের কথাকে যেভাবে প্রচারিত করা হয় বাংলাদেশেও ঠিক তেমনভাবেই যেন বই নিয়ে কথা হয় সেই আশা ব্যক্ত করেন সবসময়।

ভারতের বিভিন্ন পত্রিকায় এই খবর প্রকাশিত হয়। ছবিসূত্রঃ কিঙ্কর আহসানের ফেইসবুক প্রোফাইল

মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা এক লেখক কিঙ্কর আহসানের বই ছড়িয়ে দেয়ার এই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হোক। লেখক বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে বেড়ে উঠুক সবার মনে। জায়গা করে নিক বাংলা সাহিত্যের সবার উপরের স্থানে। ভালো থাকুক কিঙ্কর আহসান। পৃথিবী বইয়ের হোক। ‘লেখক’ হোক প্রিয় স্বপ্নের নাম। হাতে ফোন না রেখে বই রাখা বেশি জরুরী, এই কথা সবাই বুঝে উঠুক। কিঙ্কর আহসান আরও ভাল ভাল কাজ উপহার দিয়ে চলুক।

লিখেছেন : নাহিদ আহসান