আজ মহানবমী।

53

আজ মহনবমী। ইতোমধ্যেই শারদীয়া বার্তায় মা এসে গিয়েছেন,শুরু হয়ে গেছে ঠাকুর দেখা। সাধারণত আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী তিথি পর্যন্ত দূর্গাপূজা পালিত হয়। বাঙালিরা এই উৎসবকে দেবী দুর্গার বাবার বাড়ি ফেরার অনূষ্ঠান হিসেবেই দেখে। বাঙালিরা তখন এক অন্যরকম আমেজে থাকে। ঘরে ঘরে পূজোর সাজ, নতুন জামা-কাপড় ,ঢাক-ঢোল, মন্ডপে মন্ডপে ঘুরে দেবী দুর্গা দর্শন আরও কত কি!

ষষ্ঠীতে অকাল বোধন, সপ্তমীতে মায়ের প্রবেশ, অষ্টমীতে দূর্গাষ্ঠমী, বীরাষ্ঠমী ব্রত, কুমারী পূজা, অষ্টমীর শেষ ২৪মিনিট ও নবমীর প্রথম ২৪মিনিট মোট ৪৮ মিনিট সন্ধিপূজা, দশমীতে বিজয়াদশমীবিহীত পূজা, সিদুঁর খেলা ও সবশেষে বিসর্জন। কোথাও কোথাও আবার পনেরো দিন ধরে দূর্গাপূজা পালিত হয়। পশ্চিমবঙ্গের বিষ্ণুপুর শহরের মৃন্ময়ী মন্দির এবং অনেক পরিবারে এই রীতি প্রচলিত আছে। তবে করোনাকালীন সময়ে পূজা এবার বেশ অন্যরকম। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভাগ করে নিতে হবে পূজোর আনন্দ। জীবনের সব দুঃখ কষ্ট একঘেয়েমি সরিয়ে পূজোর ক’টা দিনই ভক্তরা ভুলে থাকে জীবনের জটিলতা, সুখ খুঁজে বেড়ায় সবটুকু নিংড়ে দিয়ে।

একে একে ষষ্ঠী, সপ্তমী,অষ্টমী পার করে অবশেষে চলে এসেছে মহানবমী। হিন্দু পুরাণ অনুসারে দেবী দূর্গা মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন দশমীতে, সেই দিক থেকে যুদ্ধের শেষ দিন নবমী। এই দিন ভোরবেলা মহানবমীবিহীত পূজা অর্চনার পরে অঞ্জলি দেয়া হয়। তবে নবমী মানেই কেমন চোখ ছল ছল, মন খারাপের আনাগোনা আর বিদায়ী সুর। দূর্গা মায়ের যে কৈলাশে ফিরতে হবে। বাঙালিরা দেবী দুর্গাকে ঘরেরই মেয়ে মনে করেন। দেবী দুর্গার প্রভাব সর্বত্র। এই দেবী দুর্গার ভাবনা থেকেই বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বন্দে মাতারম গানটি রচনা করেছেন। চারদিনের জন্য গিরিরাজ আর মেনকার কাছ থেকে বিদায় নেবেন গৌরী। তবে এবার একেইতো করোনা তার উপর ষষ্ঠী থেকেই আকাশের মুখ ভার। দেশের প্রায় সব জেলাতেই শুরু হয়েছে বৃষ্টি। উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের কারণে কিছুটা ভাটা পড়েছে দূর্গাপূজাকে ঘিরে জল্পনা কল্পনার। সার্বজনীন এই দূর্গাপূজায় যত জাকজমক দেখা যায় তা করোনা আর নিম্নচাপে ফুটে উঠেছে না। কেউ কেউ তো বের হতেই পারছেনা মাকে দর্শন করতে আবার কেউ বাধা উপেক্ষা করে চলে যাচ্ছেন মন্ডপে, করছেন প্রতিমা দর্শন। সব মিলিয়ে এক ভিন্ন ধরনের পূজোর স্বাদ পাচ্ছেন ভক্তগণ।

মহানবমীর শুভেচ্ছা।

লেখাঃ ইসরাত জাহান অমি।