পর্দার পিছনের একজন মানুষ অপূর্ব অভি

689

সাত বছর যাবত নাটক, চলচ্চিত্রে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছেন আলোকচিত্রী অপূর্ব অভি। প্রায় দুইশ নাটকে আলোকচিত্রী হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। সমসাময়িক প্রায় সব অভিনেতা-অভিনেত্রীই তাঁর ক্যামেরাবন্দী হয়েছেন। পাশাপাশি নানান ইভেন্টে এবং ওয়েডিং এ ছবি তুলছেন তিনি প্রতিনিয়ত। ২০১২ সালে গাজী রাকায়েতের “মৃত্তিকা মায়া” চলচ্চিত্র দিয়ে প্রফেশনাল হিসেবে ফটোগ্রাফি শুরু করেন তিনি তারপর ২০১৩ সালে চালু করেন Apurbo Avi Photorgaphy বর্তমানে চীফ ফটোগ্রাফার হিসেবে আছেন তিনি। পাঁচ বছর যাবত আন্ডারগ্রাউন্ড ক্রিয়েটিভ ফ্যাক্টরি অফিসিয়াল ফটোগ্রাফার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পাশাপাশি বর্তমানে তিনি ফটোগ্রাফিও শিখাচ্ছেন। ফটোগ্রাফিতে আসা কিভাবে এই বিষয়ে কথোপকথন হয় তার সাথে…..

সীমান্ত: আলোকচিত্রী হওয়ায় শুরুর গল্পটা শুনতে চাই?
অপূর্ব অভি: গল্পটা অনেক বড় সংক্ষেপে বলি। ছোটবেলায় খুব শখ ছিল- নিজের একটা ক্যামেরা থাকবে। সে সময় সেটা পাইনি। বড় হয়ে যখন একটা semi DSLR ক্যামেরা পেলাম শখের বশেই ছবি তুলতাম দুই বছর পর একঘেয়ে লাগতে শুরু করল, কারণ খুঁজে পেলাম-camera settings, photography technique সম্পর্কে খুব সামান্যই জানতাম, তাই ছবিতে নতুনত্বের অভাব। চিন্তা করলাম ফটোগ্রাফি শেখা দরকার। শিখতে শুরু করলাম শেখাটা এমন নেশা হয়ে গেল টানা ৩-৪ মাস খাওয়া আর ঘুমের সময়টা বাদে সারাদিন পড়ে থাকতাম অনলাইন কোর্স,ব্লগ,আর্টিকেল, ভিডিও টিউটোরিয়াল নিয়ে। এই ৪ মাস পর ভালোবাসা আর আত্মবিশ্বাসটা এমন জায়গায় দাঁড়ালো সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম- আমি ফটোগ্রাফার ওই হব। তারপর আমার জীবনের প্রথম ডিএসএলআর ক্যামেরা কিনি

সীমান্ত: সবাই ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার,পুলিশ হতে চায় আপনি আলোকচিত্রী হতে চাইলেন কেন?
অপূর্ব অভি: দেখুন, আমার মন যেটা চায় আমি সেটা করতেই ভালোবাসি মনের বিরুদ্ধে কিছু করতে পারিনা আমি। আমি একটা সময় BBA, ACCA শুরু করেছিলাম কিন্তু অনেক চেষ্টার পরও কোনভাবেই আমি ওগুলোর সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারিনি, কিন্তু ঐ ৪ মাস পর আমি অনুভব করেছি আমাকে ফটোগ্রাফারই হতে হবে, সামনে অনেক প্রতিবন্ধকতা ও ঝুঁকি ছিল, তারপরও ফটোগ্রাফি পেশাটাকে এতটা ভালবেসেছিলাম ও সম্মানের মনে হয়েছে এটা ছাড়া অন্য কিছু মাথায় আনতে পারিনি।

সীমান্ত: আমাদের দেশের অভিভাবকেরা ছেলে মেয়েরা পেশা হিসেবে আলোকচিত্রকে বেছে নিক তা চায় নাহ। আপনার ক্ষেত্রেও কি এমন হয়েছে?
অপূর্ব অভি: আর্থ-সামাজিক কারণে আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিটাই এরকম যে- ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাংকার বা সরকারী চাকুরী ছাড়া পর্যাপ্ত টাকা বা সামাজিক মর্যাদা নাই। সম্প্রতি ভিন্ন ভিন্ন অনেক পেশাজীবীরা এই ধারনা ভাঙতে সক্ষম হয়েছেন, তবুও এই ধারণার কারণেই অভিভাবকরা চান না- তাঁর সন্তান অন্য কোন পেশা বা সৃষ্টিশীল কোন পেশায় জড়িয়ে পড়ে। স্বভাবতই এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।

সীমান্ত: আপনি আলোকচিত্রী হওয়ায় পিছনে সবচেয়ে বেশি অবদান কার?
অপূর্ব অভি: সর্বপ্রথমে আল্লাহ তারপর আমার বেস্ট ফ্রেন্ডের। ওর উৎসাহ, অনুপ্রেরণা, সহযোগিতা আমি সবসময় পেয়েছি।

সীমান্ত: ফটোগ্রাফিতে আপনার অর্জন গুলো?
অপূর্ব অভি: সাত বছর যাবত নাটক,চলচ্চিত্র তে কাজ করছি। তারচেয়েও বড় ব্যাপার হল- ছবি দিয়ে কিছু মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করছি। আমার ছবি দেখে কেউ খুশি হচ্ছে, কারো ভালো লাগছে, আবার বিয়ের ছবি দেখে কনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছে , হাসছে, কাঁদছে , বাবা-মাকে মিস করছে, আমার তোলা ছবি- কিছু মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী- এসবের চেয়ে একজন আলকচিত্রীর বড় অর্জন আর কি বা হতে পারে ?

সীমান্ত: আপনি কেমন ধরনের ছবি তুলতে পছন্দ করেন?
অপূর্ব অভি: আমি মানুষের ছবি তুলতে বেশি পছন্দ করি।আমার ছবিতে মোমেন্ট,ইমোশন,বিউটি প্রাধান্য পায় সেটা হোক ওয়েডিং,ফ্যাশন কিংবা মডেলিং।

সীমান্ত: আপনার সবচেয়ে পছন্দের ফটোশুট এযাবতকালের কোনটি এবং কেন?
অপূর্ব অভি: প্রতিটা কাজ, প্রতিটা ছবি এত যত্ন করে তুলি,ইডিট করি,আলাদা করে কোন একটা কাজকে পছন্দের বলাটা কঠিন।

সীমান্ত: অবসর সময়ে কি করেন?
অপূর্ব অভি: অবসর সময়, নিজের জন্য সময় আর পাই কোথায় বলেন? বাইরে থাকলে শুট আর বাসায় আসলে ইডিট। অবসর সময়ে কোথায় কোন নতুন টেকনোলজি আসলো তা ইন্টারনেটে খোঁজখুঁজি করি। এছাড়া সময় পেলেই মুভি দেখি।

সীমান্ত: একদিন যদি বলা হয় আপনি যার ছবি তুলতে চাইবেন তার ছবি তুলতে পারবেন তবে কার ছবি তুলতে চাইবেন?
অপূর্ব অভি: ঋত্বিক রোশন।

সীমান্ত: একজন আলোকচিত্রী হিসেবে আপনি একজন তরুণ আলোকচিত্রীকে কি কি উপদেশ দিবেন?
অপূর্ব অভি: ক্যামেরা কিনলাম কয়েকটা ছবি তুললাম আর ফটোগ্রাফার হয়ে গেলাম এই ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। দেখুন একজন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার জন্য কতগুলো বছর পড়াশোনা করে তারপর পেশাগত জীবনে প্রবেশ করে। ফটোগ্রাফি কে পেশা হিসেবে নিতে হলেও একইভাবে প্রচুর পড়তে হবে, শিখতে হবে, অনুশীলন করতে হবে, সাধনা ও অধ্যবসায় থাকতে হবে। পেশাটাকে ভালবাসতে হবে, সম্মান করতে হবে, আপনি নিজে যদি পেশাটাকে কলুষিত করেন, অসম্মান করেন, সমাজের মানুষগুলো আপনাকে এবং অন্য ফটোগ্রাফারদের,ফটোগ্রাফি পেশাকে কেন সম্মান করবে?
সাক্ষাতকার নিয়েছে: গোলাম মোর্শেদ সীমান্ত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here