চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘তালতীর্থ’র শ্রাবণ সন্ধ্যা’

57

প্রকৃতির রাজ্যে বর্ষা এসছে গতমাসেই । চারদিকে কদম-কামিনী ফুলের রাজত্ব। রাজত্ব মেঘ গুড়, গুড় বৃষ্টির আর কালো মেঘেদের। বাংলার প্রতিটি ঋতুর পালাবদলের সাথে বাঙালির গানবাজনা মিশে থাকে। আমরা নেচে গেয়ে যেমন স্বাগত জানাই বৈশাখকে, ঠিক তেমনি আবার একিভাবে নেচে গেয়েই বরণ করে নেই আষাঢ়-শ্রাবণ কিংবা আমাদের অন্যান্য ঋতুগুলিকেও।

গতকাল বাংলার প্রকৃতিতে এসছে শ্রাবণ। শ্রাবণ কিন্তু কদম আর কামিনী হাতে বর্ষারই গল্প বলে।
বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিবছরই নানা আয়োজনে বর্ষা বরণ করে। কেউবা পহেলা আষাঢ়, কেউবা পহেলা শ্রাবণ। কারণ, আষাঢ় আর শ্রাবণ দুমাস মিলিয়েই কিন্তু বর্ষাকাল।

বর্ষাবরণ প্রস্তুতি সব সাংস্কৃতিক সংগঠনের অনেক আগে থেকেই ছিল। কিন্তু, বৈশ্বিক এই মহামারীর জন্য সব আয়োজনই একরকম অস্তমিত হয়।
তবে বর্তমান যুগে তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে প্রকৃতির শ্যামল ও সবুজ রূপের প্রতীক বর্ষার আগমনকে বেশিরভাগ সংগঠনই উদযাপন করেছে অনলাইনের মাধ্যমে।

চট্টগ্রামের বিখ্যাত তবলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘তালতীর্থ তবলা শিক্ষা ও শিল্পী নিকেতন’ ও পহেলা শ্রাবণ উপলক্ষ্যে আয়োজন করে ‘তালতীর্থের শ্রাবণ সন্ধ্যা’ শীর্ষক ফেসবুক লাইভ অনুষ্ঠানের।

যথাসময়ে এই ফেসবুক লাইভ অনুষ্ঠানের পর্দা ওঠে ‘শাঙন গগনে ঘোর ঘনঘটা, নিশীথযামিনী রে’ রবি ঠাকুরের মন মাতাল করা এই গানটির মাধ্যমে। গানটি আবছায়াতে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হিসেবে রেখে ‘তালতীর্থ তবলা শিক্ষা ও শিল্পী নিকেতন’ যেন সৃষ্টি-শিল্প আর প্রকৃতিকে সাথে নিয়ে দর্শকদের জন্য একের পর এক নান্দনিক চমক রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছিল গতকাল রাতে।

গতকাল ১৬ জুলাই, চট্টগ্রামের বিখ্যাত তবলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘তালতীর্থ তবলা শিক্ষা ও শিল্পী নিকেতন’র আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘তালতীর্থ’র শ্রাবণ সন্ধ্যা’ শীর্ষক অনলাইন অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানটি শুরু হয় তালতীর্থ সদস্য অরিত্র বিশ্বাসের তবলায় একক বাদনের মধ্য দিয়ে।

অরিত্র বিশ্বাস ‘র একক বাদন

এর পরপরই সংগীত শিল্পী অর্নিকা দাশ বর্ষার চিরায়ত দুটি রবীন্দ্র সংগীত ‘ বরিষ ধরা মাঝে শান্তির বারি ‘ এবং ‘ আজি ঝরো ঝরো মুখর বাদর দিনে’ গেয়ে দর্শককূলে একরকম বর্ষার স্নিগ্ধতায় এনে দেয়। তাকে তবলায় সহযোগীতা করেন রাহুল দাশ।

শিল্পী অর্ণিকা দাশ এবং রাহুল দাশ

অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করেন চট্টগ্রামের খ্যাতিমান আবৃত্তিশিল্পী শ্রাবণী দাশগুপ্তা। আবারো রবি বন্দনায় মেতে ওঠে তালতীর্থ পরিবার। প্রকৃতি মানেই রবীন্দ্র কিংবা নজরুল বাঙালিকে বারবার ফিরতেই হয় এ দুই কিংবদন্তিতে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর’ কবিতাটি শিল্পী শ্রাবণী দাশগুপ্তা তাঁর সুমুধুর স্বরে আবৃত্তি করেন, তখন মনে হচ্ছিল সত্যি বুঝি বৃষ্টি পড়ছে, সেই টাপুর টুপুর শব্দেই। ভিজছে মাঠ-ঘাট, এ শহর কিংবা বন্দর।

আবৃত্তিশিল্পী শ্রাবণী দাশগুপ্ত এবং ডান দিকের স্লাইডে চলছে ছবি আকাঁর কাজ


তারই সাথে ছিল ভিন্ন আয়োজন — ‘ছবি আঁকা’। চিত্রশিল্পী তিথি দাশ, আবৃত্তির সাথে সাথে রং তুলি আর ক্যানভাসে আঁচড় কাঁটেন বাংলার প্রকৃতি, ছাতা, গাছ কিংবা সবমিলিয়ে কদম জোড়ার বর্ষার অপরুপ সৌন্দর্যের ।

বাঁ দিক থেকে আবৃত্তিশিল্পী শ্রাবণী দাশগুপ্ত এবং ডান পাশে চিত্রাংকনে শিল্পী তিথি দাশ

চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির নৃত্য বিভাগের প্রশিক্ষক, বিখ্যাত নৃত্যশিল্পী প্রমা অবন্তি ‘এ ঘোর শ্রাবণে’ গানের সাথে নৃত্য পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুভেচ্ছা জানান তালতীর্থ পরিবারকে।

নৃত্য শিল্পী এবং প্রশিক্ষক প্রমা অবন্তি

অনুষ্ঠানের মাঝে তবলা লহড়া বাজিয়ে দর্শকদের মধ্যে মুগ্ধতার আবেশ ছড়িয়ে দেন তালতীর্থ পরিবারের সদস্য এবং ওস্তাদ সুদেব কুমার দাশের ছাত্র অনয় চক্রবর্তী।

অনয় চক্রবর্তী

অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন শিল্পী পিয়া দাশ এবং তাকে তবলায় সহযোগীতা করেন কিশোর দাস।

শিল্পী পিয়া দাশ এবং তবলায় কিশোর দাস

সংগীতশিল্পী গৌরি নন্দী, তবলা শিল্পী কনক বিশ্বাসকে সাথে নিয়ে পরিবেশন করেন —‘ এই মেঘলা দিনে একলা, ওগো বৃষ্টি আমার চোখের পাতা ছুঁয়ো না’ র মতো বর্ষার অসাধারণ কিছু আধুনিক এবং রাগাশ্রয়ী গান।

সংগীতশিল্পী গৌরি নন্দী এবংং তবলায় কনক বিশ্বাস

সবশেষে খ্যাতিমান সংগীতশিল্পী অসীম চৌধুরী নজরুল গীতি এবং তাঁর স্বরচিত দুটি গান গেয়ে অনুষ্ঠানের ইতি টানেন। এসময় তাঁকে তবলায় সহযোগীতা করেন তবলাশিল্পী সজীব বিশ্বাস।

সংগীত শিল্পী অসীম চৌধুরী এবং তবলায় সজীব বিশ্বাস

‘তালতীর্থ তবলা শিক্ষা ও শিল্পী নিকেতন’র এই ‘শ্রাবণ সন্ধ্যা’ শীর্ষক ‌অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক শ্রী সুদেব কুমার দাশ।

অর্জন মল্লিক


অনুষ্ঠান ‌‌‌সঞ্চালনায় ছিলেন– অর্জন মল্লিক, অনুষ্ঠান সম্পাদনায় — অপরূপ চৌধুরী
‌এবং ‌‌‌‌‌‌‌সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন তালতীর্থের সকল সদস্যবৃন্দ।